|

জিওফ পুলার

১ আগস্ট, ১৯৩৫ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের সুইন্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হবার পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

সুইন্টনে জন্মগ্রহণ করলেও ওল্ডহামে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। সেখানে পিতা-মাতা পানশালা পরিচালনা করতেন। আর্নেথ ক্লাবে যোগ দেন। এক পর্যায়ে প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পান। রোচডেলের বিপক্ষে ৫০ রান তুলেন। দীর্ঘ ৬ ফুট গড়ন ও ১৩ স্টোন ওজনের অধিকারী ছিলেন। ‘নডি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। যে-কোন সময়ে, যে-কোন পরিস্থিতিতে ঘুমিয়ে পড়ার প্রবণতা তাঁর মাঝে বিদ্যমান ছিল। তবে, ক্রিজে থাকাকালে বেশ সজাগ থাকতেন। সামনের পায়ের উপর ভর করে বল মোকাবেলা করতেন ও ও লেগ-সাইডে রান তুলতে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার ও ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে ক্রমাগত রান সংগ্রহ করে গেছেন। দলটির পক্ষে তিন নম্বর অবস্থানে খেলতেন। জুন, ১৯৫৪ সালে ১৮ বছর বয়সে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ল্যাঙ্কাশায়ারের সদস্যরূপে সারের বিপক্ষে খেলেন।

১৯৫৭ সালে প্রথমবারের মতো সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৯৫৮ সালের দ্বিতীয় মৌসুমে সংক্ষিপ্ত সময় মাঠের বাইরে অবস্থান করার দুই বছর পর ওয়াশব্রুকের ছন্দপতন ঘটলে তিনি আট শতক সহযোগে ৫৫ গড়ে ২৬৪৭ রান তুলেন। তন্মধ্যে, ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে তিনটি শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, একটি শতক ওভালে বাদ-বাকী একাদশের সদস্যরূপে চ্যাম্পিয়ন কাউন্টির বিপক্ষে মধ্যাহ্নভোজনের পূর্বেই পেয়েছিলেন। পরবর্তী গ্রীষ্মে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নশীপে উপর্যুপরী চারটি শতরানের ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে, হেডিংলির ধুলিময় পিচে ১২১ রান তুলেন; অন্য কেউ ৪০ রানে পৌঁছতে পারেনি।

১৯৫৯ থেকে ১৯৬৩ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৮ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৯ সালে নিজ দেশে দত্তা গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জুলাই, ১৯৫৯ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। হ্যারল্ড রোডসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দলে ফিরে আসা গিলবার্ট পার্কহাউজের (৭৮) সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ১৪৬ রান তুলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৭৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইনিংস ও ১৭৩ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

তিন সপ্তাহ বাদে প্রথম ল্যাঙ্কাশায়ারীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওল্ড ট্রাফোর্ডে টেস্ট শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন।

ঐ মৌসুমের শীতকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে কলিন কাউড্রে’র সাথে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতে ইনিংস উদ্বোধনে নেমেছিলেন। তবে, গ্রীষ্মে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নীল অ্যাডককের বাউন্সারে কব্জী ভেঙ্গে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে এগারো নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে এক হাতে খেলেন ও এক রানে অপরাজিত ছিলেন। পরবর্তী দুই খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। সিরিজের শেষ দুই টেস্টে অংশ নেন। ওভালে ১৭৫ রান তুলেন। এ পর্যায়ে কলিন কাউড্রে’র সাথে ২৯০ রানের জুটি গড়েন। এক বছরের মধ্যেই ১১ টেস্টে ৫১ গড়ে ৯২০ রান তুলেন।

১৯৫৯-৬০ মৌসুমে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৬ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৫ ও ৪৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৬০ সালে নিজ দেশে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৮ আগস্ট, ১৯৬০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৯ ও ১৭৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৬১ সালে নিজ দেশে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুন, ১৯৬১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ ও ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ২২ জুন, ১৯৬১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১১ ও ৪২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ৫ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৭ জুলাই, ১৯৬১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৩ ও ২৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে অ্যালান ডেভিডসনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ৫৪ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৬ ও ১১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৬২-৬৩ মৌসুমে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৩ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।

এরপর, ২৫ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে সাড়ে একুশ হাজারের অধিক রান তুলেছেন।

১৯৬০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। পূর্বেকার সেরা দুই বামহাতি ল্যাঙ্কাশায়ারীয় তারকা খেলোয়াড়ের পর নিজেকে সেরাদের তালিকায় নিয়ে যান। ক্রিকেটের পাশাপাশি টেবিল টেনিসে দক্ষ ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে ৭৯ বছর ১৪৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট