৩১ জুলাই, ১৯৮২ তারিখে মাসভিঙ্গোর বিকিতা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার ও নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাসভিঙ্গো এলাকা থেকে অংশ নেয়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। সেখানে বিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ঐ সময়ে ব্যাট হাতে নিয়েই অধিক সফল ছিলেন।
‘ম্যাডম্যান’ ডাকনামে পরিচিতি পান। দলীয় সঙ্গীদের অভিমত, সাধারণ লোকেরা যা করতে পারে না, তা তিনি করতে পারতেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রালস, মনিকাল্যান্ড, ম্যাশোনাল্যান্ড, সাউদার্ন রক্স, সাউদার্নস ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইউনিভার্সালসের পক্ষে খেলেছেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০১ তারিখে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে সিএফএক্স একাডেমি বনাম ম্যাশোনাল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০০১ সালে সিএফএক্স একাডেমিতে ভর্তি হন। এরপর, মনিকাল্যান্ডে স্থানান্তরিত হন। সেখানে ব্যাটিংয়ের তুলনায় বোলিংয়েই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। তাসত্ত্বেও, নিচেরসারিতে ব্যাট হাতে ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে কোন অংশে কম ছিলেন না। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে নিজ নামের পার্শ্বে এ অর্ধ-শতরানের ইনিংস লিখিয়েছেন।
২০০২ থেকে ২০০৬ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্ট ও ২৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়াকার ইউনুসের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৯ নভেম্বর, ২০০২ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/৫৮ ও ০/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, তৌফিক উমরের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১১৯ রানে জয় পায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
ঐ টেস্টে তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারেননি। তবে, এক বছর পর ২০০৩-০৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমনার্থে জিম্বাবুয়ে দলে পুণরায় খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান। সিডনিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কিন্তু কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন। তাসত্ত্বেও, মনেপ্রাণে খেলায় অংশ নিয়ে সকলের নজর কেড়েছিলেন। নভেম্বর, ২০০৩ সালে নিজ দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।
নিজেকে যথার্থ প্রমাণে বেশ কিছু সুযোগ লাভ করেছিলেন। তবে, তিনি এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেননি। মে, ২০০৪ সালে তাঁর বোলিং নজরদারীর কবলে পড়ে। হারারেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট শেষে আইসিসি বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। কেভিন কারেনের সহায়তায় বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তন করেন। এরফলে, হাতকে আরও কাছে নিয়ে আসেন। ২০০৫ সালে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্যে পুণরায় দলে যুক্ত হন। ব্যাট ও বল উভয় বিভাগেই বেশ ভালো করেন।
২০০৫ সালে নিজ দেশে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৮৬ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সিরিজ সেরা ইরফান পাঠানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বেশ হিমশিম খান। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ক্রমাগত সুইংগুলো বাইরে চলে যাচ্ছিল। এছাড়াও, ২০০৬ সালে বোর্ডের সাথে আর্থিক মতানৈক্যের কারণে খেলোয়াড়দের অনানুষ্ঠানিক মুখপত্রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দ্বিতীয় পর্যায়ের কোচিং সনদ লাভ করেন। ২০১১ সাল পর্যন্ত সাউদার্ন রক্সের পক্ষে জিম্বাবুয়ের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন।
গাই হুইটলকে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। তাঁর দৃষ্টিকোণে এডো ব্রান্ডেস ও অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে উইকেট থেকে বিদেয় করা বেশ দুরূহ বিষয়। ১৯৯৯ সালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। প্রিন্স এডওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত উচ্চ বিদ্যালয়ের উৎসবে সেরা প্রতিশ্রুতিশীল উদীয়মান ব্যাটসম্যানের পুরস্কার লাভ করেন। এ-লেভেলে ৮ পয়েন্ট লাভ করেন। যদি ক্রিকেট না খেলতেন, তাহলে স্থাপত্যবিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ক্রিকেটের বাইরে বিদ্যালয় জীবনে বাস্কেটবল, রাগবি, ফুটবল ও টেনিসে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, সাঁতার কাটতে ভালোবাসেন। গান শুনতে বেশ পছন্দ করেন।
