১০ ডিসেম্বর, ১৯৭৮ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরের ৮৫ মাইল দূরবর্তী ছোট্ট শহর ওকারায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০০১-০২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, মুলতান এবং ওয়াটার ও পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অথরিটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বালুচিস্তান বিয়ার্স, মুলতান টাইগার্স ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন। বামহাতি স্পিনার। শীর্ষমানসম্পন্ন সুযোগ-সুবিধার অভাব সত্ত্বেও তাঁর উচ্চাশাই তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়ে যায়। শুরুতে জাতীয় দলে প্রবেশের সুযোগ না পেলেও ক্রমাগত উইকেট লাভ করতে থাকেন। দশ বছর পূর্বে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাপুষ্ট হলেও দীর্ঘদিন তাঁকে টেস্ট খেলার জন্যে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল।
২০০৯-১০ মৌসুমের কায়েদ-ই-আজম প্রতিযোগিতায় ১৬.৪২ গড় ৬৯ উইকেট দখল করেছিলেন। এ পর্যায়ে জাতীয় পর্যায়ে তাঁকে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো না হলেও ২০১২-১৩ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৩ খেলা থেকে ৯৩ উইকেট পাবার ফলে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী আর উপেক্ষা করতে পারেনি। অক্টোবর, ২০১৩ সালে পাকিস্তান চিফ মিনিস্টার্স একাদশ বনাম পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি একাদশের মধ্যকার প্রস্তুতিমূলক খেলায় ৬/২২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে স্বীয় প্রতিভা বিকাশে সোচ্চার হন।
২০১৩ থেকে ২০১৬ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্ট, পাঁচটিমাত্র ওডিআই ও সাতটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৭ জুলাই, ২০১৩ তারিখে কিংসটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। এরফলে, ওকারা থেকে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেন।
অল্প কিছুদিন পর ২০১৩-১৪ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৪ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে আবুধাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। শান মাসুদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরপূর্বে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২০.৩৬ গড়ে ৩০৯ উইকেট দখল করেছিলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৮৯ ও ২/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, খুররম মঞ্জুরের শতকের কল্যাণে পাকিস্তান দল ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
৫ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টের পঞ্চম দিনে প্রথম বলেই ইংরেজ ক্রিকেটার সমিত প্যাটেলকে এলবিডব্লিউয়ে বিদেয় করেছিলেন।
২০১৬-১৭ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৩০ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১* ও ১৬* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫৬ ও ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানো ক্রেগ ব্রাদওয়েটের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ৫ উইকেটে জয়লাভ করলেও পাকিস্তান দল ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
