|

ওয়াডিংটন এমওয়েঙ্গা

২০ জুন, ১৯৮৪ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

খুব ছোটবেলা থেকে উদীয়মান ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর মাঝে বেশ সম্ভাবনা দেখা যায়। তবে, কৈশোরকালীন স্বপ্ন পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হতে পারেনি। পিতা হারারেভিত্তিক সেন্ট জোন্স কলেজের মাঠকর্মী ছিলেন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ও বামহাতি সিমার অ্যালান এমওয়েঙ্গাকে নিয়ে সেখানে অনুশীলন করতেন। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারগ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারের পিতা বিল ফ্লাওয়ার সর্বপ্রথম তাঁর অসাধারণ প্রতিভা চিহ্নিত করেন। ভাইনোনা হাই স্কুলে বৃত্তি লাভে সহায়তা করেন।

‘ওয়াড্ডি’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০২ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ঐ প্রতিযোগিতায় কেনিয়ার বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। তবে, কিশোরদের ক্রিকেটে বেশ সফলতা লাভ করলেও বড়দের ক্রিকেটে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ও ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০০২ থেকে ২০০৫ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ওডিআই ও টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা মোটেই সুবিধের হয়নি। বলে পর্যাপ্ত পেস ও সুইং আনয়ণ করতে পারছিলেন না। ফলশ্রুতিতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা থেকে বাইরে সড়ে আসতে হয়। ২৪ নভেম্বর, ২০০২ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে।

প্রায় তিন বছর পর টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ২০০৫ সালে নিজ দেশে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে প্রতিপক্ষীয় দলনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উইকেট পেয়েছিলেন। ১/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে খেলায় তিনি ১৪* ও ১ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সিরিজ সেরা ইরফান পাঠানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

এরপর, ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের ওরচেস্টারশায়ার দ্বিতীয় একাদশ দলের পক্ষে খেলেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ২০০৬ সালের পর খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টানেন। মাসভিঙ্গোর পক্ষে সর্বশেষ ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলায় অংশ নেন ও একটি উইকেট পান। এরপর থেকেই খেলার মাঠ থেকে দূরে সড়ে যান। বলকে তেমন ঘুরাতে পারতেন না। তবে, নিখুঁতভাব ও সঠিক নিশানা বরাবর বল ফেলার দক্ষতা ছিল।

একপর্যায়ে ক্রিকেট জগৎ থেকে দূরে সরে যান। অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হন। সেখানে জীবিকার সন্ধানে বাস চালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট