১৯ জুলাই, ১৯৮১ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। ২০০০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘকায় ও দর্শনীয় গড়নের অধিকারী। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জ্যামাইকা তল্লাজের পক্ষে খেলেছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ক্যারিব বিয়ার সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘বি’ দলের পক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। তবে, ঐ মৌসুমে জ্যামাইকা দল থেকে বাদ পড়েন। ঐ প্রতিযোগিতায় ৪৫.৯১ গড়ে ৫৫১ রান ও ২৬ উইকেট নিয়ে শীর্ষ অল-রাউন্ডারের পরিচিতি লাভ করেন। ঘরোয়া আসরে দূর্দান্ত খেলে ২০০৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন ও ওডিআই দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়।
২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট, ২০টি ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৩ সালে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কার্লটন বাউয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৭ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন।রিকি পন্টিংয়ের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১১৮ রানে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৫ মে, ২০০৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। তবে, উল্লেখযোগ্য সফলতা পাননি। এ বছর আরও তিনবার সুযোগ পান। কিন্তু ফলাফল একই থাকে। দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে বাদ পড়েন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসতে তাঁকে আরও ছয় বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। এ পর্যায়ে বেশ জবথবু অবস্থায় পড়ে তাঁর দল। নিয়মিত খেলোয়াড়দের ধর্মঘটের কারণে দ্বিতীয়সারির দল নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে বাধ্য হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। চার ইনিংসের তিনটিতেই অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন।
২০০৯ সালে নিজ দেশে মাশরাফি মর্তুজা’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৯ জুলাই, ২০০৯ তারিখে কিংসটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫৩ ও ৫২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩০ ও ১/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তামিম ইকবালের অসাধারণ ব্যাটিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ৯৫ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১৭ জুলাই, ২০০৯ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৭ ও ৬৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৯ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা সাকিব আল হাসানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হলেও নিয়মিত খেলোয়াড়দের প্রত্যাবর্তনে তাঁকে দলের বাইরে চলে যেতে হয়। এরপর আর তাঁকে খেলার জন্যে বিবেচিত করা হয়নি। ২০০৯ সালে কয়েকটি ওডিআইয়ে অংশ নিলেও স্বীয় স্থান ধরে রাখতে পারেননি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই নিজের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে সচেষ্ট ছিলেন। জ্যামাইকার পক্ষে খেলতে থাকেন। এছাড়াও, সিপিএলের উদ্বোধনী আসরে জ্যামাইকা তল্লাজের শিরোপা বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
