|

সচিত্র সেনানায়েকে

৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। আনন্দ কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে রুহুনা ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাসনাহীরা গ্রীনস, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৫ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে কাতুনায়াকেতে অনুষ্ঠিত রাগামা ক্রিকেট ক্লাব বনাম সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তারের ফলে জাতীয় দলের খেলার পথ সুগম হয়। ২০০৬ সাল থেকে সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের সম্মুখসারির খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান।

২০১০-১১ মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগ প্রতিযোগিতায় শীর্ষ স্তরে চতুর্থ সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। আট খেলায় ১৫.১৭ গড়ে ৪৫ উইকেট পেয়েছিলেন। এছাড়াও, সীমিত-ওভারের খেলাগুলোয়ও যথেষ্ট চাপ সহ্য করার ক্ষমতা রাখেন। ২০১১-১২ মৌসুমে শ্রীলঙ্কার প্রধান একদিনের প্রতিযোগিতায় প্রিমিয়ার লিমিটেড-ওভারে সর্বাধিক উইকেট শিকারী হন। ছয় খেলায় অংশ নিয়ে ১১.১৮ গড়ে ১৬ উইকেট দখল করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পূর্বে ৫৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ২০.৫০ গড়ে ২৯৭ উইকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেটে ওভারপ্রতি ৩.৯০ রান খরচ করে ১০৭ উইকেট দখল করেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বল্পকালীন সময় অতিবাহিত করেন। পরবর্তীতে কয়েকটি সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে যান। সেখানে তিনি তাঁর সেরা ছন্দ ফিরে পান। সীমিত-ওভারের শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লীগ প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক উইকেট লাভের কারণে সকলের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১৩ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে কলকাতা নাইট রাইডার্স $৬৫০,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে তাঁকে খেলার সুযোগ দেয়। তবে, ব্যাট কিংবা বল হাতে নেয়ার সৌভাগ্য হয়নি। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট প্রতিযোগিতায়ও বেশ ভালো খেলেন।

২০১২ থেকে ২০১৬ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ৪৯টি ওডিআই ও ২৪টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১ জুন, ২০১২ তারিখে হাম্বানতোতায় অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০ জানুয়ারি, ২০১২ তারিখে কিম্বার্লীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে।

২০১৩-১৪ মৌসুমে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কান দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। সেখানে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে আবুধাবিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৫ বল মোকাবেলা করে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, ৯৬ রান খরচ করেও খেলাও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। তবে, দলনেতার অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর সুবাদে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এছাড়াও, একদিনের দলেরও সদস্য হন।

জুন, ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে মিশ্র সফলতা পান। ব্যক্তিগত সেরা ৪/১৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন ও প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে ৯৯ রানে গুটিয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন। সন্দেহজনক বোলিং ভঙ্গীমার বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ পায়। ফলশ্রুতিতে, জুলাই, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিংয়ের উপর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। তবে, বোলিংয়ের ধরন পাল্টে ফেলেন। ডিসেম্বর, ২০১৪ সালে তাঁকে এ অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয় ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ওডিআইয়ে অংশ নেন। একই সালে ওডিআইয়ে মানকড়ীয় ভঙ্গীমায় ইংরেজ ব্যাটসম্যান জোস বাটলারকে বিদেয় করেন।

৪ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে ইংল্যান্ডের ন্যাটওয়েস্ট টি২০ ব্ল্যাস্টে ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। তিনি আজমলের শূন্যতা পূরণে স্থলাভিষিক্ত হন। ২০১৫ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ১৫-সদস্যের শ্রীলঙ্কান দলের সদস্য হন। গ্রুপ পর্বের খেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। তবে, জুলাই, ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ওডিআইয়ে দারুণ খেলা উপহার দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। সব মিলিয়ে ৪৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে ৫৩ উইকেট দখল করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৪/১৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন।

বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী সনথ নন্দসিরি’র কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতেন। পেশাদার ক্রিকেটার হবার সুবাদে সঙ্গীত জগতের সাথে ছেদ ঘটে। সুরকার ও শিল্পী হিসেবে মে, ২০১৬ সালে ওয়াতিনা ওবাগে নামীয় প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পূর্বে ক্রিকেটবিষয়ক কিরুলা জেনেমু বাই সেন্টিগ্রাদজে অংশ নেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ইরেশা সেনানায়েকে নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট