৭ আগস্ট, ১৯৫৯ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

প্রকৃতমানের অল-রাউন্ডার হিসেবে অমিত সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অগ্রসর হন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে উচ্চ স্তরের ক্রিকেটে নিজেকে তুলে ধরতে পারেননি। মূলতঃ উত্তরোত্তর পেশাদারী পর্যায়ে ধাবিত হওয়ার দিকে তাল মেলাতে না পারার কারণে শৌখিন খেলোয়াড় হিসেবে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। জিম্বাবুয়ের প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। শ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়ের বাইরে থেকে জিম্বাবুয়ে দলের প্রথম খেলোয়াড় ছিলেন। যখনই তিনি খেলেছেন তখনই তাঁর দল সর্বদাই লাভবান হয়েছে। সহযোগী দেশের মর্যাদাকালীন জিম্বাবুয়ে দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিলেন ও অন্যান্যদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দলের পূর্ণাঙ্গ সদস্যের মর্যাদা লাভে সহায়তা করেন। দলের ভারসাম্য রক্ষায় বহুবিধ দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। বল হাতে নিয়ে মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে আক্রমণাত্মক ধাঁচে বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। তবে, ১৯৮০-এর দশক থেকে চলে আসা ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে খেলোয়াড়ী জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এরফলে, ক্রিকেট খেলায় অধিক মনোনিবেশ ঘটাতে পারেননি।

ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান। সর্বদাই দেশের শীর্ষ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে পিতা বিরাট প্রভাব ফেলেছিলেন। ক্লাব ক্রিকেট নির্বাচনেও ভূমিকা রাখেন। যখনি খেলতে যেতেন তখনই সন্তানকে নিয়ে যেতেন। পিতার পোশাক-পরিচ্ছেদ, প্যাড ও জুতো পরিস্কার রাখা তাঁর দায়িত্ব ছিল। পিতা ইউনিভার্সালসের সদস্য ছিলেন। এ ক্লাবেই আলী শাহ তাঁর ক্রিকেট জীবনের অধিকাংশ খেলায় অংশ নিয়েছেন। এরপর, সানরাইজে চলে যান। দুই ভাগে বিভাগ হবার পূর্বে হারারেভিত্তিক এশীয় ক্রিকেটারদের অরিয়েন্টালস নামীয় একটিমাত্র দল ছিল। স্ব-গৃহে তাঁরা ক্রিকেটবিষয়ক আলোচনায় মত্ত থাকতেন এবং তিনি তাঁকে ক্রিকেট সম্পর্কে ধারনা দিতেন। তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা ওয়াকারও কিছুটা প্রতিভাবান। তাঁরা একত্রে সানরাইজ ও ইউনিভার্সালসের পক্ষে খেলেছেন। পরবর্তীতে, ওয়াকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

১৫ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেন। দশ নম্বর অবস্থানে খেলানো হলেও ইউনিভার্সালসের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান বেশ শক্তিধর বিধায় তিনি নিজেকে ছয় নম্বর অবস্থানে নিয়ে আসেন। নিচেরসারি বেশ দূর্বল থাকায় প্রায়শঃই দলের পতন রোধে এগিয়ে আসতেন এবং এ অবস্থানে থেকেই বেশকিছু চমৎকার ইনিংস উপহার দিতেন। ইউনুস আহমেদের মতে, তিনি এক প্রান্ত আগলে রাখতেন ও চমৎকার প্রতিরক্ষাব্যূহ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোয় ইনিংস উদ্বোধনের অধিকারী। জিম্বাবুয়ে দলে তাঁকে এ অবস্থানে প্রথম রাখা হলেও পরবর্তীতে তাঁকে নিচেরসারিতে খেলানো হয়েছিল।

১৯৭৯-৮০ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে রোডেশিয়া ও ম্যাশোনাল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইউনিভার্সালসের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে রোডেশিয়া ‘বি’ এবং ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত ম্যাশোনাল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন।

স্বাধীনতা লাভের অল্প কিছুদিন পূর্বে লীগে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের তুলনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পর ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে সলসবারির হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ে-রোডেশিয়া ‘বি’ বনাম ট্রান্সভাল ‘বি’ দলের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। আট নম্বর অবস্থানে নেমে মাত্র ২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে, খেলা বৃষ্টিবিঘ্নিত হবার ফলে তিনি বোলিংয়ের সুযোগ পাননি। তিনি মন্তব্য করেন যে, তাঁকে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে রাখা হলেও জ্যাক হেরন ও কেভিন আরনটকে এ অবস্থানে খেলানো হয়।

আবারও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলতে তাঁকে আরও তিন বছর প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে হয়। বিশ্বকাপের অল্প কিছুদিন পূর্বে পূর্ণাঙ্গ শক্তিমত্তার অধিকারী ইয়ং অস্ট্রেলিয়ান দলের মুখোমুখি হন। জ্যাক হেরনের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে প্রথম খেলায় ৪২ ও ৫৫ এবং দ্বিতীয় খেলায় ১৩ ও ১০৫ রানের জুটি গড়েন। দলটির বিপক্ষে পুরোপুরি নব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তাঁরা অত্যন্ত আগ্রাসী ও খুবই বাকপটু ছিল এবং এ ধরনের ক্রিকেটারদের বিপক্ষে আর খেলেননি। বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়। রড ম্যাককার্ডি ও মাইক হুইটনি’র ন্যায় দুই পেস বোলারের বিপক্ষে অপরাপর খেলোয়াড়দের হিমশিম খেতে দেখা গেলেও তিনি এর ব্যতিক্রম ছিলেন। ৬৭ রান তুলে বিদেয় নেন। এ ইনিংস চলাকালে বাদ-বাকীদের কাছ থেকে খুব কমই সহায়তা পেয়েছেন। এরপর, অধিনায়ক ডানকান ফ্লেচারের ৫৬ রানের কল্যাণে জিম্বাবুয়ে দল ৩১০ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করে ও প্রতিপক্ষকে ২১৬ রানে গুটিয়ে দেয়।

একদিনের শেষ খেলায় জিম্বাবুয়ে দল পরাজিত হলেও তিনি ৬৮ রানের ইনিংস খেলে ১৯৮৩ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার তৃতীয় আসরে জায়গা করে নেন। এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৬ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও ২৮টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ৯ জুন, ১৯৮৩ তারিখে নটিংহামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। গ্র্যান্ট প্যাটারসনের সাথে প্রথম খেলায় ইনিংস উদ্বোধনে নামেন। এ জুটিতে ৫৫ রান উঠে ও তিনি ১৬ রান তুলে ডেনিস লিলি’র বলে উইকেট-রক্ষক রড মার্শের গ্লাভসবন্দী হন। এছাড়াও, অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক কিম হিউজকে স্কয়ার লেগ অঞ্চলে শূন্য রানে তালুবন্দী করে ফেরৎ পাঠান ও জিম্বাবুয়ে দল ১৩ রানের অবিশ্বাস্য জয়ের রেকর্ড গড়ে। তবে, ব্যাট হাতে এ প্রতিযোগিতায় খুব কমই সফলতা পান। ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ ও ২ রান তুলে দল থেকে বাদ পড়েন।

এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যালবারিতে অনুষ্ঠিত খেলায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের বিজয়ের ন্যায় সেরা অঘটনের নেপথ্যে অবস্থান করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। গ্রুপ পর্বের খেলায় প্রতিপক্ষকে মাত্র ১২৫ রানে গুটিয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন।

দেশে ফিরে আসার পর সফররত ইয়ং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, প্রথম দুই খেলা থেকে মাত্র ৩৭ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ম্যালকম মার্শাল, ওয়েন ড্যানিয়েল ও হার্টলি অ্যালিয়েনের ন্যায় পেস বোলারদের বিপক্ষে দলীয়সঙ্গীরা তাঁদের কৌশল পরিবর্তনে অগ্রসর হলেও তিনি তা করেননি। সফরকারী ব্যাটসম্যানদের পায়ের কারুকাজে অনুকরণ করে তাঁরা কিছুটা সফল হলেও তাঁর ক্ষেত্রে উপযোগী ছিল না।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১/৪৬ ও ০/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। স্মর্তব্য যে, জিম্বাবুয়ে-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে এটিই ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট ছিল।

শ্রীলঙ্কা সফরে দৃশ্যতঃ প্রতিদিনই বৃষ্টিতে খেলা বিঘ্নিত হয়। একদিনের খেলা মধ্যাহ্নবিরতির পর পরিত্যক্ত ঘোষিত হলে তাঁদের বাস ক্ষিপ্ত দর্শকদের রোষানলে পড়ে ও বাসে ঢিল ছোড়া হয়। এ সফরে তিনি খুব কমই ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তী কয়েক মৌসুমেও প্রথম-শ্রেণীর কোন খেলায় ৫০ রানের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, নিয়মিতভাবে দলে খেলেছিলেন। বোলিংয়েও কোন সফলতা পাচ্ছিলেন না ও কোন উইকেট পাননি। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম শেষে তাঁর বোলিং গড় ২৩৮ হয়। কেবলমাত্র ইয়ং অস্ট্রেলিয়ান দলের সফরে ১৪৮ রান সংগ্রহকারী ডেভিড বুনের উইকেট পেয়েছিলেন। ডেভ হটন অপূর্ব দক্ষতার সাথে তাঁকে স্ট্যাম্পিং করেছিলেন।

পুরো খেলোয়াড়ী জীবনে একমাত্র এশীয় হিসেবে অংশ নেন। দলে তিনি কোন সমস্যা খুঁজে পাননি। বর্ণবাদ কিংবা সাংস্কৃতিকভাবে কোন শ্বেতাঙ্গ জিম্বাবুয়ীয় খেলোয়াড়ের কাছ থেকে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হননি। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট চলাকালীন কেভিন কারেনের সাথে একই কক্ষে অবস্থান করেন। গ্র্যান্ট প্যাটারসন ও ইয়ান বুচার্টের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এছাড়াও, জন ট্রাইকোস ও কেভিন আরনটের ন্যায় জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছেন। ১৯৮৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে গ্রায়েম হিকের সাথে কক্ষ ভাগাভাগি করে থাকেন।

এছাড়াও, ১৯৮৬ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি প্রতিযোগিতায় খেলেন। জিম্বাবুয়ে জয়লাভ করে ও ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এ প্রতিযোগিতায় তেমন সফলতা পাননি। পিটার রসন, কেভিন কারেন ও এডো ব্রান্ডেস আঘাতের কবলে পড়লে দলের অন্যতম সিমার হিসেবে আবির্ভূত হন। এরফলে, ম্যালকম জার্ভিস, ইয়ান বুচার্টকে নিয়ে বল হাতে বোলিং আক্রমণ কার্য পরিচালনায় অগ্রসর হন। পাঁচ উইকেট নিয়ে অফ-স্পিনার জন ট্রাইকোসের পর এবং ৩৫ গড়ে কেভিন কারেনের পর দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করেন। ওভারপ্রতি তিনি মাত্র ৪.৫০ রান খরচ করেছিলেন। বিদেশ সফরকালীন দোকান পরিচালনার জন্যে সাময়িকভাবে ব্যবস্থাপকের সন্ধান পান। কিন্তু, নিজ দেশে তিনি তেমন সফলতা পাননি।

দূর্বল খেলার কারণে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে দল থেকে বাদ পড়েন। তবে, পরের মৌসুমে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে সদর্পে ফিরে আসেন। প্রতিপক্ষীয় ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে দল প্রথমবারের মতো পাঁচদিনের ক্রিকেটে অংশ নেয়। প্রথম খেলায় ৯৮ রানে বিদেয় নেন। এরপর তেমন ভালো না খেললেও ১৯৯০ সালে ইংল্যান্ড সফর ও হল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান।

তন্মধ্যে, ব্রিস্টলে অনুষ্ঠিত খেলায় গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ১৮৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এ সফরের পর তিনি নজর থাকা জাতীয় দলের অনিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৯২ সালে টেস্ট মর্যাদা লাভের বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত করে। প্রারম্ভিক দলে তিনি সদস্য হন। জিম্বাবুয়ের রাগবি খেলোয়াড় ইয়ান রবার্টসন ও ম্যালকম জার্ভিসের নির্দেশনায় দৈনিক তিন ঘণ্টা অনুশীলন করেন।

খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে টেস্ট ক্রিকেটার হন। প্রশিক্ষণ গ্রহণে অনাগ্রহ ও অনুশীলন করতে না পারায় সন্দেহাতীতভাবে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে বিঘ্ন ঘটায়। তাসত্ত্বেও, ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণের জন্যে মনোনীত হন। কিন্তু খেলা শুরুর পূর্বে গর্তে পা পড়ে গোড়ালীতে আঘাত পান ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে নিজেকে জড়াতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে বুলাওয়ে থেকে সারারাত ভ্রমণ শেষে যোগ দেয়া গ্যারি ক্রোকারকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল। তাসত্ত্বেও, তিন টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।

জিম্বাবুয়ের অভিষেক টেস্টের পরপরই ১ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে বুলাওয়ে অ্যাথলেটিক ক্লাবে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২৮ রান সংগ্রহ করে ও উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মার্ক গ্রেটব্যাচের উইকেট লাভ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। এ মৌসুমের শেষদিকে স্বীয় প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপকের ব্যবস্থা করে ভারতে সংক্ষিপ্ত সফরে যান। তিনটি-খেলা নিয়ে গড়া ওডিআই সিরিজের দ্বিতীয়টি বাদে সবকটিতেই অংশ নেন। তবে, তেমন সফলতা পাননি। দিল্লিতে একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ভারত দল খেলায় ইনিংস ব্যবধানে জয় পেলেও সাতজন জিম্বাবুয়ীয় ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত হয়। তন্মধ্যে, তিনিও দ্বিতীয় ইনিংসে এর শিকার হয়েছিলেন।

পরের মৌসুমে আবারও ভারত সফরে একদিনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দলের সাথে যান। চার খেলার দুইটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। কার্যকরী ভূমিকা রাখলেও উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে পারেননি। এরপর, পাকিস্তানে বড় ধরনের সফরে যায় তাঁর দল। তবে, বেশ কয়েকজন শৌখিন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে তিনিও পাকিস্তান গমন না করে দেশে ফিরে আসেন। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের অব্যহতির কারণে তাঁকেসহ অ্যান্ডি ওয়ালার ও ইয়ান বুচার্টকে কিছু সময়ের জন্যে পরবর্তীতে খেলানো হলেও জন ট্রাইকোস ও কেভিন আরনটকে আর দলে ফিরিয়ে আনা হয়নি।

পরবর্তী বছরে ভারত গমন করেছিলেন। তবে, দল নির্বাচকমণ্ডলী আরও নতুন মুখের সন্ধান করায় দলের বাইরে চলে যান। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমের ঘরোয়া ক্রিকেটে চমৎকার খেলেন। এ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের ‘এ’ দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে বিদেশ সফরে যান। ফলশ্রুতিতে, প্রায় চার বছর পর শ্রীলঙ্কা গমনার্থে জিম্বাবুয়ে দলে যুক্ত হন। চতুর্দেশীয় একদিনের সিরিজে অংশ নেন। প্রথম খেলায় ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ৪১ রান তুলেন। এক পর্যায়ে দলের সংগ্রহ ৫৬/৫ দাঁড়ায়। দ্বিতীয় খেলায় দশ নম্বরে তাঁকে নামানো হয়। তৃতীয় খেলায় দলের বাইরে থাকেন। তাঁর বোলিংও খুব কম ব্যবহার করা হয়।

দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁকে দলে রাখা হয়নি। ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২ তারিখ থেকে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা ৬২ রানের ইনিংস খেলেন। এরজন্যে তিনি ক্রিজে পাঁচ ঘণ্টাকাল অবস্থান করেছিলেন ও মুত্তিয়া মুরালিধরনের ন্যায় বোলারদের রুখেছিলেন। ফিল্ডিংকালীন কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে প্রতিকূলতা রুখে দিয়ে এ সাফল্য পান। কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডারদেরকে নিরাশ করেন ও অনেক বল প্যাড দিয়ে মোকাবেলা করেন।

এটিই তাঁর সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ ছিল। ওরচেস্টারশায়ারের কোচের দায়িত্বে থাকা ডেভ হটনের প্রত্যাবর্তনে পাকিস্তান কিংবা ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর নিয়মিতভাবে ও সফলতার সাথে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ৪০ বছর বয়সে সর্বশেষ খেলেন। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে টেলিভিশনে ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষকের ভূমিকায় থেকে সময় অতিবাহিত করছেন। এক পর্যায়ে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হন। হিথ স্ট্রিকের সাথে প্রশাসনের সম্পৃক্ততায় খেলোয়াড়দের বিদ্রোহী হবার ফলে ২০০৪ সালে এ দায়িত্ব থেকে চলে আসতে বাধ্য হন। হারারেতে বসবাস করছেন। বস্ত্র গুদামজাতকরণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। জন্ম সনদে আলী হাসিমশাহ ওমরশাহ নামে পরিচিত।

সম্পৃক্ত পোস্ট