|

গ্ল্যাডস্টোন স্মল

১৮ অক্টোবর, ১৯৬১ তারিখে বার্বাডোসের ব্রাইটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

মোজলে স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। টেস্ট ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অদ্ভূত চেহারার অধিকারী তিনি। ১৯৭৯ থেকে ১৯৯৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার ও অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৯ সালে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। এরপর থেকেই দলের তারকা খেলোয়াড়ে পরিণত হন।

বিয়ার্সের সুইং বোলার হিসেবে অংশ নেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনই দলটিতে খেলেছেন ও আট শতাধিক প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেছেন। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে অ্যাডিলেডে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেছেন। ৮ মে, ১৯৮০ তারিখে ভিক মার্কসের স্ট্যাম্প উপরে ফেলে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। ঐ বছর ১৮ বছর বয়সী গ্ল্যাডস্টোন স্মল ১৩টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। পরের বছর ১৮ ও এর পরের বছর ২২টি খেলায় অংশ নেন। ২০ বছর বয়সেই ৫০-এর অধিক চ্যাম্পিয়নশীপের খেলার সাথে নিজেকে যুক্ত করেন।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ১৭ টেস্ট ও ৫৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ৫৫ উইকেট দখল করেছেন। ১৯৮৬ সালে নিজ দেশে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৭ আগস্ট, ১৯৮৬ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় ৪ উইকেটের সন্ধান পান। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৮৮ ও ১/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, *২ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রিচার্ড হ্যাডলি’র অসামান্য অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে অ্যাশেজ করায়ত্ত্ব করতে স্বর্ণালী মুহূর্ত উদযাপনের অংশ নিয়ে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। ঐ মৌসুমে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এমসিজিতে অনুষ্ঠিত বক্সিং ডে টেস্টে অপূর্ব খেলেন। এ সিরিজে অংশ নেয়ার পূর্বে মাত্র দুই টেস্টের অভিজ্ঞতা ছিল। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের চতুর্থ টেস্টের পূর্বে গ্রাহাম ডিলি প্রস্তুতিমূলক খেলায় হাঁটুতে আঘাত পেলে খেলার সুযোগ পান। ব্যক্তিগত সেরা ৫/৪৮ নিয়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলকে ১৪১ রানে গুটিয়ে দেন।

এরপর, ১০ জানুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৭৫ ও ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৫৫ রানে জয় পেলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৮৯-৯০ মৌসুমে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৪৪ ও ৪/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যালান ল্যাম্বের দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে ঐ খেলায় সফরকারীরা খুব সহজেই ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৯০-৯১ মৌসুমে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। উভয় ক্ষেত্রে মার্ভ হিউজের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৫ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ক্রেগ ম্যাকডারমটের দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ওডিআই দলে অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। ১৯৮৭ ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। উভয়ক্ষেত্রেই অবশ্য তাঁর দলকে দ্বিতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ১৩১৪ উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন।

খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্রিকেটের সাথে যুক্ত রয়েছেন। পিসিএ’র পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্ল্যাক ওপালের সাথে বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট সফরে ব্যস্ত আছেন। এছাড়াও, অবসর গ্রহণের পর নৈশভোজন পরবর্তী বক্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট