২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ক্যাম্বারওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘স্পিনার’ ডাকনামে ভূষিত হন। অস্ট্রেলিয়ার তারকা ক্রিকেটার ছিলেন। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৫৭ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে ইয়ান ক্রেগের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে অংশ নেন। এরফলে, ২০৭তম খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ব্যাগি গ্রীন ক্যাপ লাভের অধিকারী হন। ওয়ালি গ্রাউট, ইয়ান মেকিফ ও বব সিম্পসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৪৭ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। ঐ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। এরফলে, ঐ সময়ে ৬জন অস্ট্রেলীয় ও বৈশ্বিকভাবে তেরোজন ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে এ সাফল্য পান। ঐ টেস্টের শেষ তিনজন ব্যাটসম্যান – ফুলার, টেফিল্ড ও অ্যাডকককে উপর্যুপরী বলে বিদেয় করেন। সবাইকে শূন্য রানে আউট করেছিলেন। খেলায় তিনি ৩/২৯ ও ৩/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৪১ রানে জয়লাভ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৩৭ ও ৩/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে এইচজে টেফিল্ডকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/১৮। খেলায় তিনি ৪/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে হিউ টেফিল্ডের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ৪* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৫৯ সালে দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। লাহোর টেস্টে দারুণ খেলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৭/৭৫ লাভ করেন। ঐ সিরিজে প্রথম বিদেশী দল হিসেবে তাঁর দল পাকিস্তানের মাটি থেকে সিরিজ জয় করে।
১৯৫৯-৬০ মৌসুমে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে জসুভাই প্যাটেলের শিকারে পরিণত হন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৬ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১১৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় আসতে সমর্থ হয়।
১৯৬০-৬১ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রাঙ্ক ওরেলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। এ সিরিজেই টেস্টের ইতিহাসের প্রথম টাই টেস্ট হয়। সিরিজের শুরুতে ডিসেম্বর, ১৯৬০ সালে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়া বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টাই টেস্টের সাথে যুক্ত থেকে নিজেকে সর্বদাই স্মরণীয় করে রেখেছেন। ঐ টেস্টের সর্বশেষ বল মোকাবেলা করেন। জয়সূচক রান সংগ্রহকালে জো সলোমনের বলে ইয়ান মেকিফ রান-আউটে বিদেয় নেন। সবমিলিয়ে স্বল্পকালীন টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন মন্দ হয়নি। ৪০ বছর পর ইয়ান মেকিফ, ওয়েস হল ও জো সলোমনের সাথে একত্রিত হয়েছিলেন।
একই সফরের ২৭ জানুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। এগারো নম্বর অবস্থানে মাঠে নামেন। তখনও খেলার ১০০ মিনিট বাকী ছিল। ড্র হবার মানসে অগ্রসর হন ও কেন স্ল্যাশার ম্যাককে’র সাথে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। এরফলে দল সিরিজ জয় করতে সমর্থ হয়। খেলায় তিনি ০* ও ১৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০৯ ও ০/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
টেস্টগুলো থেকে ২২.৮২ গড়ে ৩৪ উইকেট দখল করেছিলেন। খুবই স্বল্পসংখ্যক বামহাতি রিস্ট-স্পিনারের অন্যতম হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে উচ্চ স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে থেকে ১৯৬০-এর দশকের শুরুরদিক পর্যন্ত মাত্র ১৩ টেস্ট খেললেও বেশ চমৎকার রেকর্ড গড়েছিলেন। এছাড়াও, টেস্টের বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ২৭.৩৯ গড়ে ২৭৬ উইকেট দখল করেন।
২ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে ৮১ বছর ৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
