৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯০ তারিখে সমারসেটের টানটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান তরুণ হিসেবে পরিচিতি পান ও মাঝারিসারিতে ভিত্তি আনয়ণ করেন। ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতর সংস্করণে ইংল্যান্ডের বিশ্ব ক্রিকেটের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে, প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখলেও পরবর্তীতে দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় তেমন সুবিধে করতে পারেননি। তাঁর ব্যাটিং অনেকাংশেই সঠিক সময়ে ও আগ্রাসী ভূমিকা সহকারে বলকে ফাঁকা জায়গায় প্রেরণের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।
মধ্যবিত্ত খ্রিস্টান পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা জন বাটলার ও মাতা প্যাট্রিসিয়া বাটলার। পিতা শারীরিক শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। অপর দুই ভাই-বোন জিমি গোসার ও জোয়ান ভিকার্সকে নিয়ে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ২০০৯ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার ও সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস, ম্যানচেস্টার অরিজিনালস, মেলবোর্ন রেনেগাডেস, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস ও সিডনি থান্ডারের পক্ষে খেলেছেন।
২০১১ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৩১ আগস্ট, ২০১১ তারিখে ম্যানচেস্টারে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
টেস্ট অভিষেক পর্বটি দারুণভাবে সম্পন্ন হয়েছিল তাঁর। ২০১৪ সালে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুলাই, ২০১৪ তারিখে সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত পতৌদি ট্রফির তৃতীয় টেস্টে সফররত ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো লাল-বলের ক্রিকেটে অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে ৮৫ রানের মনোরম ইনিংস খেলেন। ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪২০/৫ থাকা অবস্থায় ব্যাট হাতে মাঠে নামেন। ভারত দলকে চাপে ফেলতে দ্রুতলয়ে রান সংগ্রহকালে মাত্র ৮৩ বলে এ রান তুলেন। নয়টি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকান। তাঁর এ ইনিংসের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫৬৯ রান তুলে চালকের আসনে বসে। এছাড়াও, স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ২৬৬ রানে জয়লাভ করে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।
২০১৫ সালে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১ মে, ২০১৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩* ও ৩৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। জার্মেইন ব্ল্যাকউডের ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে সিরিজ ড্র করতে সক্ষম হয়।
২০১৬-১৭ মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ভারত সফর করেন। ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭৬ ও ৬* সংগ্রহের পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় দলনায়ক বিরাট কোহলি’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৩৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০১৮ সালে নিজ দেশে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১ জুন, ২০১৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৮০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৫ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একই বছর নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮৯ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রবীন্দ্র জাদেজা’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, অ্যালাস্টার কুকের অসাধারণ ব্যাটিং দাপটে ১১৮ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৮-১৯ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ২৬ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জেসন হোল্ডারের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৩৮১ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৯ সালে নিজ দেশে টিম পেইনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪১ ও ৩৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্টিভেন স্মিথের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮৫ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৯-২০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১২ ও ২২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। কুইন্টন ডি ককের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১০৭ রানে পরাজয়বরণ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০২০ সালে নিজ দেশে আজহার আলী’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ২১ আগস্ট, ২০২০ তারিখে সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ১৫২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, জ্যাক ক্রলি’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোয়ায়। এ সিরিজে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০২১-২২ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দিবা-রাত্রির দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ২৬ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউট করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, মারনাস লাবুশেনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৭৫ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৫ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। উসমান খাজা’র জোড়া শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করে ২০১০ সালে এনবিসি ডেনিস কম্পটন পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, একই বছর ইয়ং উইজডেন বর্ষসেরা বিদ্যালয় বালক ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ২০১৯ সালে এমবিই উপাধীতে ভূষিত হন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ২০১৭ সালে লুইস ওয়েবার নাম্নী এক তরুণীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। দলীয় সঙ্গী স্টিভেন ফিন ও অ্যালেক্স হেলস বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এপ্রিল, ২০১৯ সালে জর্জিয়া রোজ নাম্নী এক কন্যা সন্তানের জনক হন।
