২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১ তারিখে চিমানিমানি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কর্ণধার হিসেবে চিত্রিত হন। গ্লেন ম্যাকগ্রাকে পছন্দের তালিকায় সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন। মহান তারকার ন্যায় নিখুঁত ও নিশানা আনয়ণে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও, প্রকৃতমানের পেস বোলিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। অদ্ভুত সামঞ্জস্যহীন ভঙ্গীমায় বোলিংয়ের বিষয়ে প্রত্যেকের নজর কেড়েছেন। ক্রিজে থাকাকালীন বামহাতে দলে আঠার মতো যুক্ত থাকলেও ঠিকই ডানহাতে উইকেট দখল করে দলকে খেলা ধরে রেখেছেন। দীর্ঘদেহ নিয়ে নমনীয় ভঙ্গীমায় পর্যাপ্ত পেস সহযোগে ফাস্ট বোলিং করেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে উভয়দিক দিয়েই বলকে ঘোরানোয় পারদর্শী।
সহজাত প্রকৃতির দৌঁড়বিদ ছিলেন। উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন নিজ প্রদেশ মনিকাল্যান্ডের পক্ষে ২০০ ও ৪০০ মিটার দৌঁড়ে অংশ নিয়েছেন। তবে, খুব দ্রুত ক্রিকেটের দিকে ধাবিত হন। ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাউন্টেনিয়ার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বন্দ-ই-আমির ড্রাগন্স, কাবুল ঈগলস, ইস্টার্ন লায়ন্স ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমির পক্ষে খেলেছেন। ২২ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে ১৮ বছর বয়সে মুতারেতে অনুষ্ঠিত মাউন্টেনিয়ার্স বনাম মিড ওয়েস্ট রাইনোসের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এরপর থেকেই দ্রুত নিজেকে সম্মুখসারিতে নিয়ে আসতে তৎপরতা দেখান।
নভেম্বর, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজে অংশ নেন। ঐ সিরিজে দলের শীর্ষস্থানীয় উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। এরপর, ২০০৯-১০ মৌসুমে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। পরবর্তীতে, দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরে পড়েন ও জাতীয় পর্যায়ে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ লাভ করেন।
২০১০ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১৩ জুন, ২০১০ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি২০আইয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। ক্রমশঃ বিপজ্জ্বনক হয়ে ওঠা ইউসুফ পাঠানের উইকেট লাভে সক্ষম হন। এরপর, দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। তবে, জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল ও ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নিয়ে নিজেকে পরিপক্ক করে তুলেন। ২০১৩ সালের মধ্যেই দেশের অন্যতম সেরা দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে চিত্রিত করেন।
২০১২-১৩ মৌসুমে ব্রেন্ডন টেলরের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১২ মার্চ, ২০১৩ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হয়। ২/৬৬ ও ১/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
২০১৩ সালে আঠারোটি আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ নিয়ে ৩২ উইকেট দখল করেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান ও দলকে বিজয়ী করতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে কাইল জার্ভিসের অবসর গ্রহণ, ক্রিস এমপফু’র খেলার মানের অবনতি ও ব্রায়ান ভিটোরি’র ক্রমাগত আঘাতপ্রাপ্তির ফলে ২০১৪ সালে নিজেকে জিম্বাবুয়ের প্রধান বোলারের আসনে নিয়ে যান।
২০১৪ সালে নিজ দেশে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৯ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২২ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৪ ও ১/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অভিষেক ঘটা ডেন পাইতের বোলিং কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হয়।
২০১৮-১৯ মৌসুমে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফরে যান। ১১ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে ঢাকায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ২১৮ রানে পরাজিত হয়। ১/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান।
নভেম্বর, ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বশেষ খেলার তিন বছর পর জুলাই, ২০২১ সালে পুণরায় টেস্ট দলে ফিরে আসেন। এ পর্যায়ে অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে সক্রিয় ছিলেন।
২০২৪ সালে ক্রেগ আরভিনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে আয়ারল্যান্ড গমন করেন। ২৫ জুলাই, ২০২৪ তারিখে বেলফাস্টের সিভিল সার্ভিস ক্রিকেট ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৪৭ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৪* রান সংগ্রহ করেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয়লাভ করে।
