১৫ নভেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে হকস বে’র হ্যাস্টিংসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন ও বামহাতে দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিং করতেন। মূলতঃ ইন-সুইংয়ে দক্ষ ছিলেন। তবে, ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পারায় দ্রুত তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ২১ বছর বয়সে খেলোয়াড়ী জীবনের শুরু থেকেই বাউন্সারের মাধ্যমে বোলিং আক্রমণ চালাতে থাকেন। এরপর, ইন-সুইঙ্গারের দিকে ধাবিত হন। ফলশ্রুতিতে, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আকস্মিকভাবে সফল হন। ২০০০-০১ মৌসুমে হাঁটুর আঘাতের কবলে পড়েন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ১৯ টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১/১০৪ ও ৩/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারের অপরূপ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২০ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। উভয় ইনিংসে ৭ রান করে সায়মন কুকের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১০৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্টিভ ওয়াহ’র দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৭০ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৯৯ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৩০ ও ২/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ক্রিস কেয়ার্নসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮৩ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে নিউজিল্যান্ডের নবম উইকেটের পতন ঘটলে এসবি ও’কনর মাঠে নামেন। ডিজে ন্যাশের সাথে জুটি গড়তে পিচের কাছাকাছি পৌঁছানোকালে ইনিংস ঘোষণার সঙ্কেত আসে। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৫ ও ০/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ম্যাথু সিনক্লেয়ারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১০৫ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ২০০০ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে সিআর মিলারকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৫২। এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। বল হাতে নিয়ে ৫/৫১ ও ২/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৬ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

২০০০-০১ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৩০ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ১৬ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। ২০ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে নিকি বোয়ে’র দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ব্যক্তিগত ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২/৬৮ ও ১/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, নীল ম্যাকেঞ্জি’র অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২০০১-০২ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৮ নভেম্বর, ২০০১ তারিখে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ব্রেট লি’র প্রাণান্তঃকর অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ওডিআইয়ে আরও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ওভারপ্রতি সাড়ে পাঁচ রান খরচ করেন। এছাড়াও, ক্রমাগত আঘাতের কারণেও তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শেষে ২৮ মার্চ তারিখে অবসর গ্রহণ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘আমি ব্যবসায়ের দিকে ধাবিত হয়েছি। আশা করি যে, আমার বাদ-বাকী জীবনে স্থিরতা আসবে’।

সম্পৃক্ত পোস্ট