১০ অক্টোবর, ১৯১৯ তারিখে ত্রিনিদাদের বেলমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

পর্তুগীজ বংশোদ্ভূত আন্তঃঔপনিবেশিক ক্রিকেটার জে এজার্টন গোমেজের সন্তান তিনি। কুইন্স রয়্যাল কলেজে অধ্যয়ন করেন ও সেখানে অস্ট্রেলীয় টেস্ট ক্রিকেটার আর্থার রিচার্ডসনের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৭তম জন্মদিনের পাঁচমাস পূর্বে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট খেলায় যুক্ত হন। ক্লিফোর্ড রোচের নেতৃত্বাধীন নর্থ ত্রিনিদাদের পক্ষে খেলেন। একমাত্র ইনিংসে তিনি ২০ রান তুলেন। ঐ খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম থেকে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮ বছর বয়সে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুমে আন্তঃঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় ত্রিনিদাদের সদস্যরূপে ব্রিটিশ গায়ানার বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ১৫ ও ৩৯ রান সংগ্রহ করলেও প্রতিপক্ষীয় দল জয়লাভ করে।

১৯৩৮ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম ১১৯ রানের শতক হাঁকান। আরএস গ্রান্টস একাদশের সদস্যরূপে বিজি’র ব্রিটিশ গায়ানার বিপক্ষে এ সফলতা পান। তবে, ১৯৩৯-৪০ মৌসুমে ত্রিনিদাদের সদস্যরূপে জ্যামাইকার বিপক্ষে ১৬১ রান সংগ্রহের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৩৯ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলার জন্যে বিবেচনায় চলে আসেন।

১৯৩৯ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ২৯ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। টেস্টগুলো থেকে এক শতক সহযোগে ৩০.৩১ গড়ে ১২৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২৭.৪১ গড়ে ৫৮ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৩৯ সালে রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুলাই, ১৯৩৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। ফফি উইলিয়ামসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্ট ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ১৯ আগস্ট, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে নিজ দেশে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৬২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ৩ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩৬ ও ২৫* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৫০ সালে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ৩-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় করে। ৮ জুন, ১৯৫০ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৫ ও ৮ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২৯ ও ২/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। আল্ফ ভ্যালেন্টাইনের অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার কারণে সফরকারীরা ২০২ রানে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৪ জুন, ১৯৫০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ৭০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৩২৬ রানে জয়লাভ করলে সফরকারীরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় ফেরে।

একই সফরের ২০ জুলাই, ১৯৫০ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯ ও ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১০ উইকেটে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। ৩০ নভেম্বর, ১৯৫১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১/৪৭ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৪ ও ৪১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৭ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৫১ তারিখ থেকে শুরু হওয়া মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৭ ও ৫২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৫ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। নাটকীয়ভাবে ১ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিজ দেশে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। সিরিজের প্রথম টেস্টটিতে তিনি ৪৭* ও ৩ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১৬ ও ১/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৪০ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১০ ও ২/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ক্লাইড ওয়ালকটের মনোরম দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮১ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৩০ মার্চ, ১৯৫৪ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে জয় পেলে সফরকারীরা সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে ১২৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১৪ শতক সহযোগে ৪৩.৬৩ গড়ে ৬৭৬৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ২১৬ রান তুলেন। এছাড়াও, ৯২টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ২৫.২৬ গড়ে ২০০ উইকেটের সন্ধান পান। পাঁচবার পাঁচ-উইকেট ও দুইবার দশ উইকেট দখল করেছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৯/২৪ লাভ করেছিলেন।

১৯৭৪ সালে ক্রীড়ায় অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ত্রিনিদাদ ও টোবাগো হামিং বার্ড মেডেল গোল্ড লাভ করেন। ১৯৮৫ সালে সাধারণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো স্পোর্টস হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। ৬ জুন, ১৯৮৮ তারিখে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর $১.৫০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের ডাকটিকিটে তাঁকে চিত্রিত করা হয়। এছাড়াও, ১৯৯৬ সালে নিজ সম্প্রদায়ে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ত্রিনিদাদ ও টোবাগো চাকোনিয়া মেডেল গোল্ড লাভ করেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৯৬৫ সালে একটি টেস্টে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ১৯৬১ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। ক্রিকেটের বাইরে ফুটবল খেলায় পারদর্শী ছিলেন। ইনসাইড-ফরোয়ার্ড অবস্থানে খেলতেন। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ গায়ানার ত্রিনিদাদ ও ১৯৪৭ সালে জ্যামাইকার পক্ষে ফুটবল খেলেছেন। দেশের ফুটবল ও টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সহঃসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য ছিলেন। বয়েজ স্কাউট আন্দোলনে সভাপতি ও বার্ষিক সঙ্গীত উৎসবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জিপি গোমেজ নামীয় সন্তানের জনক। টেনিস খেলাকালীন হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হন। অতঃপর, ৬ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে ৭৬ বছর ৩০১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন কুইন্স পার্ক ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট