২২ জুলাই, ১৯৭৮ তারিখে নেভিসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নেভিসের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ২০০৪ সালের ক্যারিব-বিয়ার সিরিজ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে শারীরিক পরীক্ষায় কৃতকার্য্য হতে পারেননি। এর এক মাস পর কাকাতো ভাইকে ছুরিকাঘাতের কারণে জানুয়ারি, ২০০৪ সালে গ্রেফতার হন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ও পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।
২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্ট, ৫৬টি ওডিআই ও সাতটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০২ তারিখে শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
২০০৫ সালে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৩ জুলাই, ২০০৫ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দিনেশ রামদিন ও জাভিয়ের মার্শালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪৩ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, চামিণ্ডা ভাসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কারণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১ মার্চ, ২০০৬ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ওডিআইয়ে ব্যক্তিগত একমাত্র শতকের সন্ধান পান। এ পর্যায়ে তাঁর দল ৩২৫ রানের পর্বতসম জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হলেও তাঁর এ শতরান কোন কাজে আসেনি। অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন ও তাঁর দল ৯১ রানে পরাজয়বরণ করে।
২০০৭ সালে রামনরেশ শারওয়ানের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ জুন, ২০০৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৫ ও ৫৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০০৮ সালে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ মে, ২০০৮ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২ ও ১৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। শিবনারায়ণ চন্দরপলের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০০৯ সালে ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে জয়সূচক রান সংগ্রহ করেন। ক্রিকেটের বাইরে তিনি বেশ বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ৪ মার্চ, ২০১২ তারিখে ত্রিনিদাদের চেজ ভিলেজ এলাকায় মাত্র ৩৩ বছর ২২৬ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা লেগে গাড়ী দূর্ঘটনায় তাঁর প্রাণহানী ঘটে। মৃত্যু পরবর্তীকালে ১১ জুলাই, ২০১২ তারিখে বাসেতেরেতে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে তাঁর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর, তাঁর বিধবা পত্নীকে চেক প্রদান করা হয়। সাবেক অধিনায়ক ক্রিস গেইল তাঁকে ‘যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
