১ মে, ১৯৫৪ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিন্ধু প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮০ সালে পাকিস্তানের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। পাকিস্তান দলে অভিষেককালীন ব্যাটসম্যান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে আসিফ ইকবালের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৮০ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। খেলায় ৯০ ও ৪৬ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

তবে, সংক্ষিপ্ত খেলোয়াড়ী জীবনের বাদ-বাকী সময় তাঁকে গ্লাভস হাতে উইকেটের পিছনে অবস্থান করতে হয়েছিল। একই মৌসুমের শীতকালে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের বিপক্ষে নিজস্ব তৃতীয় টেস্টে সাত ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে অপরাজিত ২১০ রান তুলেন। পরবর্তীতে, ২০০০-০১ মৌসুমে জিম্বাবুয়ীয় উইকেট-রক্ষক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার অপরাজিত ২৩২ রান তুলেছিলেন।

১৮ মার্চ, ১৯৮০ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

তাসত্ত্বেও, গ্লাভস হাতে ওয়াসিম বারি’র প্রাধান্যতায় তসলিম আরিফকে মাত্র ছয় টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। ৬২.৬২ গড়ে রান তুলে টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮০ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। তবে, সিলভেস্টার ক্লার্কের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৫৬ রান জয় পেয়ে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এছাড়াও, একই দলের বিপক্ষে একই সালে ওডিআই অভিষেক ও সর্বশেষ ওডিআই খেলেন। বিস্ময়করভাবে বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটের দ্বিতীয় আসরে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ফুসফুসের সংক্রমণে ১৩ মার্চ, ২০০৮ তারিখে ৫৩ বছর ৩১৭ দিন বয়সে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট