|

ক্লিফোর্ড ম্যাকওয়াট

১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২২ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বামহাতে কার্যকর ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৩-৪৪ মৌসুম থেকে ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯৫৪ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ক্লাইড ওয়ালকটের পিঠে আঘাত ও পরবর্তীতে জোরপূর্বক অবসর গ্রহণের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্যতম উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁকে দলে খেলানো হয়। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিজ দেশে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই অংশ নেন। ১৫ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জন হল্ট ও মাইকেল ফ্রেডরিকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আট নম্বর অবস্থানে থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৪ ও ৩৬* রান তুলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ১৪০ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

জর্জটাউন টেস্টে জে. কে. হল্টের সাথে অষ্টম উইকেটে দারুণ খেলে ফলো-অনের কবল থেকে দলকে রক্ষা করেন। ৯৯ রানের জুটি গড়ে রান-আউটের শিকার হন। স্বীয় ভাষ্য অনুসারে প্রায় দুই গজ দূরে থেকে তাঁর এ বিদায়ে উত্তেজিত দর্শকেরা আম্পায়ার ব্যাজ মেনজিসের দিকে ধেয়ে আসলে খেলা প্রায় দশ মিনিট বন্ধ থাকে। এক বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও এক টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।

এরপর, ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, ক্লাইড ওয়ালকটের মনোরম দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮১ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপূর্বে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে ভারত সফরে ক্লাইড ওয়ালকটের সহকারী হিসেবে দলে ছিলেন। কিন্তু, ঐ সফরে কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি।

১৯৫৫ সালে নিজ দেশে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ এপ্রিল, ১৯৫৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৮৬ সালে কানাডায় অভিবাসিত হন। ২০ জুলাই, ১৯৯৭ তারিখে কানাডার অটোয়া এলাকায় ৭৫ বছর ১৬৯ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন তিনি।

সম্পৃক্ত পোস্ট