১৮ আগস্ট, ১৯২৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৪০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ছয় ফুটের ন্যায় অপ্রত্যাশিত উচ্চতা ও লিকলিকে দৈহিক গড়ন নিয়ে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মাত্র ৬০ কেজি ওজন ছিল তাঁর। তবে, উইকেট-রক্ষণে বিরূপ প্রভাব পড়েনি। লিকলিকে গড়নের কারণে স্বল্প প্রচেষ্টাতেই সাফল্য পেয়েছেন। ভারতের উইকেট-রক্ষণে পার্সিদের জয়-জয়কারে ভূমিকা রাখেন। পার্সি ঐতিহ্য বহন করে, খোরশেদ মেহেরামজি থেকে ফারুক ইঞ্জিনিয়ারের পথ ধরে স্ট্যাম্পের পিছনে গ্লাভস হাতে ক্রমাগত সাফল্য পেয়েছেন। সাউথ অস্ট্রেলীয় বর্ডার ওয়াচ মন্তব্য করেছেন যে, ‘তিনি বেশ লম্বাটে গড়নের খেলোয়াড় ছিলেন। তবে, বেশ চটপটে মনোভাবসম্পন্ন হবার কারণে খুব কমই বল ফস্কে যেতো।’
১৯৩৭-৩৮ মৌসুম থেকে ১৯৪৯-৫০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সিন্ধুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দারুণ খেলা উপহার দেয়া সত্ত্বেও ঐ সময়ে সিন্ধু দলের বোলিং দূর্বলতার কারণে তিনি খুব কমই নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছিলেন। ২২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ১৮ খেলায় উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়ে ২৩ ক্যাচ ও ৬ স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যাটসম্যান হিসেবে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ১৭ গড়ে ৪৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ পর্যায়ে কোন অর্ধ-শতকের সন্ধান না পেলেও ১৯৪৫-৪৬ মৌসুমে উপর্যুপরী ৪৬ ও ৪২ রান তুলেছিলেন।
বাই ভিভাজি সোপ্রাতিওয়ালা হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে ডিজে সিন্ধু কলেজে অধ্যয়নের পর বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৪ বছর বয়সে সিন্ধু দলের পক্ষে ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। লর্ড টেনিসন একাদশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ২২ রান তুলে স্ট্যান ওয়ার্থিংটনের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ায় মাঝে-মধ্যে খেলায় অংশ নিতেন। তাসত্ত্বেও, ১৯৪৫-৪৬ মৌসুমে মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪৬ ও বোম্বের বিপক্ষে ৪১ রানের উপর্যুপরী ইনিংস খেলেন।
১৯৪৭ সালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন। ১৯৪৬ সালের ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে ভারত দলে রাখা হয়নি। কিন্তু, ধীরে ধীরে ঠিকই নিজেকে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উইকেট-রক্ষক হিসেবে পরিণত করেন। ঐ শীতে বেশ ভালো করেন।
ব্যাটসম্যান হিসেবে তেমন সুবিধে করতে না পারলেও নিখুঁতমানের উইকেট-রক্ষণের ফলে ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে লালা অমরনাথের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। এ সফরে ভারতের শীর্ষ উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। দলের প্রথম পছন্দের উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁর সহযোগী হিসেবে প্রবীর সেনকে রাখা হয়। অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ৪৩ রান তুলেন। ২২৯/৯ থাকা অবস্থায় গোগুমাল কিষেনচাঁদের সাথে শেষ উইকেটে ৯৭ রান যুক্ত করেন। ফলশ্রুতিতে সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট খেলার সুযোগ পান।
২৮ নভেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। গোগুমাল কিষেনচাঁদ, হিমু অধিকারী ও খান্দু রংনেকরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বিল ব্রাউনকে কট বিহাইন্ডে ও রে লিন্ডওয়ালকে স্ট্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে বিদেয় করেন। কিন্তু, আর্নি তোশ্যাকের ৫/২ ও ৬/২৯ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা মাত্র ৫৮ ও ৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। ঐ টেস্টে তিনি শূন্য ও ২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এরফলে, প্রথম ভারতীয় উইকেট-রক্ষক হিসেবে নিজস্ব প্রথম টেস্ট ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নেন। পরবর্তীতে অবশ্য অজয় রাত্রা ও পার্থিব প্যাটেল অমর্যাদাকর তালিকায় তাঁর সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি স্ট্যাম্পিং ও একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ২২৬ রানে জয় পায় এবং পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
দুই টেস্টে অংশ নিলেও তেমন সফলতা পাননি। শ্রেয়তর সাফল্যের কারণে তাঁর সহকারী প্রবীর সেনকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এভাবেই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। একই সফরের ১২ ডিসেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। এ টেস্টেও সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি ১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
এক পর্যায়ে পাকিস্তানে চলে যান। সেখানে প্রথম-শ্রেণীর আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে ৫৮ বছর ১৯১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
