| |

স্ট্যান ওয়ার্থিংটন

২১ আগস্ট, ১৯০৫ তারিখে ডার্বিশায়ারের বলসোভার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিখুঁতমানসম্পন্ন ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

স্টেভিলিভিত্তিক নেদারথর্প গ্রামার স্কুলে পড়াশুনো করেন। এ সময়ে তিনি খুব কমই ক্রিকেট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ দিনগুলোয় ডার্বিশায়ারের সাথে প্রারম্ভিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন ও ১৭ বছর বয়সে বিদ্যালয় ত্যাগের পর তাঁর মাঝে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার হবার কোন ইচ্ছে ছিল না। বলসোভার কোলিয়ারি কোম্পানিতে ইলেকট্রিসিয়ান হিসেবে যোগ দেন। বাসেটল’ লীগে কোলিয়ারি ক্লাবের পক্ষে খেলতেন। ঐ সময়ে ক্লাব ক্রিকেটারের চেয়েও শ্রেয়তার বোলার হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটান। এরপর, কাউন্টিতে প্রতিভাবান খেলোয়াড় অন্বেষণকালীন ফ্রেড টেট তাঁকে চিহ্নিত করেন।

এপ্রিল, ১৯২৩ সালে ডার্বিশায়ারে চলে আসেন। এক মাস যাচাই-বাছাইয়ের পর তিনি সন্তুষ্টি কুড়ান। তাঁকে দলে রাখা হয়। তবে, আগস্ট, ১৯২৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার জন্যে তাঁকে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৪ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে ডার্বিশায়ারে চমৎকার ও কার্যকর অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে সচেষ্ট ছিলেন। প্রায় বিশ হাজার রান ও প্রায় সাতশত উইকেটের সন্ধান পান। ১৯৩৬ মৌসুমে নিজের স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করেছিলেন।

আগস্ট, ১৯২৪ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ঐ মৌসুমে কাউন্টির পক্ষে একটিমাত্র প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ঐ মৌসুমে তাঁর দল পয়েন্ট তালিকার সর্বনিম্ন স্থান অধিকার করে। বিপর্যয়কর মৌসুমের পর থেকে পরবর্তী বারো বছরের মধ্যে দলের উল্লেখযোগ্য উত্তরণ ঘটে। ১৯৩৪ সালে উইজডেনে তাঁর আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ও কাউন্টির ভাগ্য পরিবর্তনে বিরাট ভূমিকা রাখেন।

১৯৩০ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, এটিই নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলা ছিল। হ্যারল্ড জিলিগান, মরিস অলম, মরিস টার্নবুল, স্ট্যান নিকোলস ও টিচ কর্নফোর্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১/২৪ ও ২/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে রজার ব্লান্টের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৩৬ সালে নিজ দেশে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৫ আগস্ট, ১৯৩৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১২৮ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে পরাভূত হলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৩২২ রানের ব্যবধানে বিশাল জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/১৮ লাভ করেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৩৬৫ রানে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

একই সফরের ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪৪ ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ২০০ রানে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৩৭ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ৩১ আগস্ট, ১৯৭৩ তারিখে নরফোকের কিংস লিন এলাকার হাসপাতালে ৬৮ বছর ১০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। এ পর্যায়ে অবকাশযাপন করছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট