|

এহসান আদিল

১৫ মার্চ, ১৯৯৩ তারিখে গোজরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ফয়সালাবাদ উল্ভস ও লাহোর কালান্দার্সের পক্ষে খেলেছেন।

২০১২-১৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েই স্বীয় যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছিলেন। ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান দলের সদস্য ছিলেন। ঐ বছরের শেষদিকে ৩ অক্টোবর তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত খেলায় হাবিব ব্যাংকের সদস্যরূপে পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংকের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। প্রথম খেলা থেকে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন। চারদিনের ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ১৭.৮৮ গড়ে ৫৪ উইকেট দখল করেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দলের পক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

২০১৩ থেকে ২০১৫ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। নিজস্ব ২০তম জন্মদিনের মাসে বারোটি প্রথম-শ্রেণীর অংশ নেয়ার পরপরই প্রথম টেস্ট খেলার সুযোগ পান। জুনায়েদ খানউমর গুলের অনুপস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে পাকিস্তানের টেস্ট দলে যুক্ত করা হয়। পাকিস্তানের তিন সদস্যবিশিষ্ট পেস বোলিং আক্রমণে সম্মিলিতভাবে তাঁদের মাত্র দুই টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতাপুষ্ট ছিল।

২০১২-১৩ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় তেমন ভালো ফলাফল করতে সক্ষম না হলেও নিজস্ব তৃতীয় বলেই প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথকে বিদেয় করে তাৎক্ষণিক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ২/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ৯ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অপর অভিষেকধারী কাইল অ্যাবটের দূর্দান্ত বোলিংশৈলীর কারণে খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ১৮ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

২০১৫ সালে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ৩ জুলাই, ২০১৫ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ০/৩৭ ও ১/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে থারিন্ডু কৌশলের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। তবে, ইউনুস খানের অনবদ্য শতকের সুবাদে সফরকারীরা ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় ও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এক পর্যায়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসিত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট