|

হ্যারল্ড বাটলার

১২ মার্চ, ১৯১৩ তারিখে নটিংহামের ক্লিফটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন।

১৯৩৩ থেকে ১৯৫৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সার্ভিসেস দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৩৯ থেকে ১৯৫২ সময়কালে নটিংহ্যামশায়ারের প্রধান বোলিং চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হতেন। দৌঁড়ানোর ভঙ্গীমা দর্শনীয় না হলেও দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বডিলাইন সিরিজ শেষে হ্যারল্ড লারউডের শূন্যতা পূরণে তিনি অগ্রসর হয়েছিলেন। হ্যারল্ড লারউড ও বিল ভোসের কারণে ১৯৩৯ সালের পূর্ব পর্যন্ত দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাননি। এ পর্যায়ে ছয়বার কাউন্টি দলটির পক্ষে বোলিং গড়ে শীর্ষস্থানে অবস্থান করেছিলেন।

একবার তিনি ট্রেন্ট ব্রিজের দর্শককূলের কাছ থেকে £২০ পাউন্ড-স্টার্লিং পুরস্কার হিসেবে লাভ করেছিলেন। ১৯৩৭ সালে সারের বিপক্ষে হ্যাট্রিক লাভ করলে এ পুরস্কার পান। তিনি ৮/১৫ লাভ করেছিলেন। ঐ খেলায় নটস দল আট বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সারের বিপক্ষে জয়লাভে সক্ষম হয়। ঐ মৌসুমেই নিজস্ব দ্বিতীয় হ্যাট্রিকের সন্ধান পান। ওয়ার্কসপে লিচেস্টারের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করার পর ১৯৩৯ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের তৃতীয় হ্যাট্রিক করেন। ১৯৩৯ ও ১৯৪৭ সালে ১০০ প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেন।

১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ছয় বছর খেলতে পারেননি। যুদ্ধের পর ইংল্যান্ড দলে পেস বোলারের সঙ্কট সৃষ্টি হয়। সন্দেহাতীতভাবে নিজের সেরা দিনগুলো ফেলে আসলেও ১৯৪৭ সালে নিজ দেশে অ্যালান মেলভিলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ১৯৪৭ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক ইয়ংয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে অপূর্ব বোলিং করেন। ২৮ ওভারে ৪/৩৪ পান। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে মিতব্যয়ীতার স্বাক্ষর রেখে ৩/৩২ লাভ করেন। খেলায় তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ ছিল ৫২-২৪-৬৬-৭। তবে, কোন ইনিংসেই তাঁকে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামতে হয়নি। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। চূড়ান্ত খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি।

তবে, ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমের শীতকালে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনের সুযোগ পান। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে দেড় স্টোন ওজন কমে যায়। সুস্থ হবার পর ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দূর্দান্ত বোলিং করে ৩/১২২ লাভ করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দুই উইকেটের সন্ধান পান। এছাড়াও, ১৫* ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এরপর আর তাঁকে কোন টেস্টে রাখা হয়নি। বিষয়টি অনেকাংশে ধূয়াসার মতো ছিল। অনেক বোলারের টেস্ট গড় ২০-এর নীচে ছিল না ও ইংল্যান্ড দলে অ্যালেক বেডসারের যোগ্য সঙ্গীর প্রয়োজন ছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ঘরোয়া আসরে সরব ছিলেন। বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় আসলেও আরও ছয় বছর নটসের পক্ষে খেলেন। মে, ১৯৫৪ সালে সারের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নশীপে খেলায় কাঁধে গুরুতর জখম পেলে অনিচ্ছাসত্ত্বেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হন।

১৭ জুলাই, ১৯৯১ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের লেন্টন এলাকায় ৭৮ বছর ১২৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট