|

মার্শাল আইয়ুব

৫  ডিসেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও কার্যকর লেগ-স্পিন বোলিংয়ে পারদর্শী। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০০৫ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে বরিশাল বিভাগ, মধ্যাঞ্চল, চট্টগ্রাম বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিস ও কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চিটাগং কিংসের পক্ষে খেলেছেন।

৪ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে বরিশাল বিভাগীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রতিপক্ষ খুলনার বিপক্ষে ঐ খেলায় তিনি পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। এরপর ২০০৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের পক্ষে খেলেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সদস্য ছিলেন। তবে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার জন্যে তাঁকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চার সহস্রাধিক রান তোলার পরই কেবলমাত্র তিনি জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে চলে আসেন। অবশেষে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান।

ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে বিশেষতঃ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেটে চমৎকার ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন। ওয়ালটন জাতীয় ক্রিকেট লীগে ঢাকা মেট্রোপলিস ও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে প্রাইম দলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

৬ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে ঢাকা মেট্রোপলিস বনাম খুলনা বিভাগের মধ্যকার জাতীয় ক্রিকেট লীগের খেলায় অনবদ্য শতরানের ইনিংস খেলে দলকে রক্ষা করেন। ২০১৯-২০ মৌসুমের গ্রীষ্মকালে তিনটি শতক হাঁকান। ৫৯.১২ গড়ে ৪৭৩ রান তুলে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায় যুক্ত হন। লাল-বলের খেলায়ও বেশ কয়েক মৌসুম একাধিপত্য বিস্তার করেছেন। তন্মধ্যে, ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৫০.৪৭ গড়ে ৯৫৯ রান ও ২০১৭-১৮ মৌসুমে ৪৯.৮০ গড়ে ৭৪৭ রান পেয়েছেন।

২০১৩-১৪ মৌসুমের শুরুতে লিস্ট-এ ক্রিকেটের খেলায় ৪০ গড়ে ছয় শতাধিক রান তুলেন। ২০১৭ সালে ৪৪.০৬ গড়ে ৬৬১ রান এবং ২০১৭-১৮ মৌসুমে ৪৫.১৪ গড়ে ৬৩২ রান পেয়েছেন। কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর পূর্বে যুক্তরাজ্যের লীগে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন।

২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে মাত্র তিন টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৯ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২৫ ও ৩১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সোহাগ গাজী’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে ঢাকার মিরপুরে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ১৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৪৮ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে মাত্র ১২৫ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট