৮ অক্টোবর, ১৯৮৫ তারিখে করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পাকিস্তানের জনপ্রিয় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার তারিক আলমের সন্তান। ১৭ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। পাকিস্তান কাস্টমস ও করাচী দলের পক্ষে ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেন। ফলশ্রুতিতে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। সেমি-ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ৪৩ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে পাকিস্তান দল চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেয় ও শিরোপা জয় করে। এছাড়াও, বামহাতি প্রতিভাবান অল-রাউন্ডারের সন্ধান পায় পাকিস্তান দল।

২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক ও পাকিস্তান কাস্টমসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, করাচী ডলফিন্স, করাচী কিংস, করাচী হোয়াইটস ও ইউভা নেক্সটের পক্ষে খেলেছেন। ২২ ডিসেম্বর, ২০০৩ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ বনাম পাকিস্তান কাস্টমসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের বিপক্ষে খেলেছিলেন। একই বছরে বড়দের স্তরে খেলার উদ্দেশ্যে গঠিত জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে যোগদানের আমন্ত্রণ পান। ২০০৬-০৭ মৌসুমে সত্যিকার অর্থে নিজেকে মেলে ধরেন। এ পর্যায়ে অন্যদের সাথে বিরাট ব্যবধানে এগিয়ে যান। টি২০ কাপের চূড়ান্ত খেলায় পূর্বতন চ্যাম্পিয়ন শিয়ালকোট স্ট্যালিয়ন্সের বিপক্ষে করাচী ডলফিন্সের শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। পাঁচ-উইকেট লাভের পাশাপাশি ৫৪ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, ম্যান অব দ্য ফাইনাল, ম্যান অব দ্য সিরিজ, সেরা ব্যাটসম্যান ও সেরা বোলারের পুরস্কারগুলো পান।

দীর্ঘ সংস্করণের কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে বড় ধরনের রান তুলতে থাকেন। পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ক্ষুদ্র সংস্করণে খেলায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখেন। প্যাট্রনস কাপে ন্যাশনাল ব্যাংকের শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। এছাড়াও, এবিএন আমরো কাপের চূড়ান্ত খেলায় করাচী ডলফিন্সকে নিয়ে যান। ঐ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সুন্দর মৌসুম অতিবাহিত করেন। এরফলে, পাকিস্তান একাডেমি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশ গমন করেন। সেখানেও বেশ ভালো করলে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২১ বছর বয়সে ২২ মে, ২০০৭ তারিখে আবুধাবিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইটিতে আশানুরূপ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে পারেননি। বোলিংয়ের জন্যে তাঁকে ডাকা হয়নি। এছাড়াও, প্রথম বলেই শূন্য রানে বিদেয় নিতে হয়। তাসত্ত্বেও, দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর উপর আস্থা রাখেন। সীমিত-ওভারের দলে তাঁকে রাখা হয়।

সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সালে আফ্রিকা গমনার্থে পাকিস্তান একাডেমি দলের সদস্য হন ও দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন। কেনিয়ার বিপক্ষে চারদিনের খেলায় অংশ নিয়ে ৩০২ রানে অপরাজিত ছিলেন। ২০০৯ সালে ইউনুস খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১২ জুলাই, ২০০৯ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখে অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১৬ রান সংগ্রহ করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৮ রানের মনোরম শতক হাঁকান। তবে, নুয়ান কুলাসেকারা’র দূর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিক দল ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। নুয়ান কুলাসেকেরা’র সাথে যৌথভাবে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে কুইন্টন ডি ককের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক্সের মুখোমুখি হন। ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ১০৯ ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর দূর্দান্ত শতকে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

২০২২ সালে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৪ জুলাই, ২০২২ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২৪ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিক দল ২৪৬ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট