২৬ মে, ১৯৯০ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দূর্দান্তভাবে আবির্ভাব ঘটে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা কুড়ান ও সকলের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হন। ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারের সন্তান ও ভ্রাতাদের ন্যায় তিনিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইন্স লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস, গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স, ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স, এডমন্টন রয়্যালস, লাহোর লায়ন্স, লাহোর কালান্দার্স, কোয়েট গ্ল্যাডিয়েটর্স ও উইনিপেগ হকসের পক্ষে খেলেছেন।

২৬ অক্টোবর, ২০০৭ তারিখে পেশাওয়ারে অনুষ্ঠিত সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইন্সের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। জারাই তারাকিয়াতি ব্যাংক লিমিটেডের বিপক্ষে ঐ খেলায় আক্রমণাত্মক অবলম্বন করে শতক ও অর্ধ-শতকের সন্ধান পান। ফলশ্রুতিতে, ২০০৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্যে পাকিস্তান দলের সদস্য হন। তবে, ঐ প্রতিযোগিতায় তেমন সুবিধে করতে পারেননি। এরফলে, জাতীয় দলে খেলার সুযোগ করে নিতে কিছুটা দেরী হয়। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অংশ নেয়ার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। দুইটি শতরান ও একটি অর্ধ-শতরান করেছিলেন।

২০০৯ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনের প্রবেশ করেন। ঐ খেলায় অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। পরের খেলায় মনোরম শতরান ইনিংস খেলেন।

একই বছরের নভেম্বর মাসে টেস্ট দলে যুক্ত হন। ২০০৯-১০ মৌসুমে মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৪ নভেম্বর, ২০০৯ তারিখে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শতক হাঁকিয়ে টেস্ট অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। প্রথম ইনিংসে শেন বন্ড ও ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র ন্যায় বোলারদের মোকাবেলা করে ১৯ বছর বয়সী উমর আকমল অভিষেক টেস্টে ১২৯ রান তুলেন। এ পর্যায়ে ব্যাটিংয়ে দক্ষ অন্য কোন ব্যাটসম্যানই ৩০-এর কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, শেন বন্ডের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এছাড়াও, টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকে নিজস্ব প্রথম শতক বিদেশের মাটিতে হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু, টি২০ খেলায় মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। গোল্ডেন ডাক লাভ করেন। তবে, উইকেট-রক্ষণে অংশ নিয়ে স্বান্তনাসূচক দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করতে পেরেছিলেন।

ক্রিজে নির্ভিকচিত্তে অবস্থান করতেন। বিস্তৃত স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়ে ক্রিকেট পণ্ডিতদের কাছ থেকে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। ঐ সিরিজসহ পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সফরে এর ধারাবাহিকতা বহমান রাখেন। নিজস্ব তৃতীয় ওডিআইয়ে শতক হাঁকান। মাঝারিসারিতে দৃঢ়তা আনেন ও স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ফলশ্রুতিতে, সকল স্তরের ক্রিকেটে কয়েক বছর নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পান।

তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের দ্বিতীয়ার্ধ্বে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ২০১০ সালে তাঁর খেলায় ছন্দপতন ঘটতে শুরু করে। বিতর্কিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। দল নির্বাচকমণ্ডলীর সাথে বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে। আঘাতের ভূয়া ঘটনা, কারাগারে সময় ব্যয়, দলীয় সঙ্গীদের সাথে দুর্ব্যবহার অন্যতম। জুন, ২০১১ সালে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে গণমাধ্যমে স্বাক্ষাৎকারের ঘটনায় কারণ দর্শাও নোটিশ পান। এর পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজে শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে দল থেকে বাদ পড়েন। দল নির্বাচকমণ্ডলীর পরামর্শমাফিক ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে যান। দীর্ঘ সময় ধরে খেলা ও বড় ধরনের রান সংগ্রহে তৎপর হন।

২০১১-১২ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ১ সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত এক-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১৫ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, মোহাম্মদ হাফিজের চমৎকার অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

পাকিস্তান সুপার লীগ ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের সক্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন। ২০১৬ সালের পিএসএলের আসরে লাহোর লায়ন্সের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এছাড়াও, বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আদনান আকমলকামরান আকমল নামীয় অপর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতৃদ্বয়ও পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, চাচাতো ভাই বাবর আজম পাকিস্তান দলে খেলছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। নূর আমনা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট