১৩ জুলাই, ১৯৩৪ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার বারটিকা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

এনিয়াস মেনডঙ্কা ও অসমন্ড মেনডঙ্কা দম্পতির ১০ সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো বার্বাডোসের বিপক্ষে খেলেন। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৭৪ ও ২৭ রান তুলেছিলেন। নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৫ ও ৬৯ রান তুলেছিলেন। পরবর্তীতে অবশ্য নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ে নামতেন।

১৯৬২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে নরি কন্ট্রাক্টরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। সাবিনা পার্কে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে আঘাতপ্রাপ্ত জ্যাকি হেনড্রিক্সের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। ৭ মার্চ, ১৯৬২ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে খেলেন। উইলি রড্রিগুয়েজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বিস্ময়করভাবে তিনি চারটি ক্যাচ ও স্ট্যাম্পিং ঘটিয়েছিলেন। এছাড়াও, আট নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৮ রান তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে ইনিংস ব্যবধানে জয় এনে দেন। এ পর্যায়ে সপ্তম উইকেটে গ্যারি সোবার্সের সাথে ১২৭ রান ও অষ্টম উইকেটে চার্লি স্টেয়ার্সের সাথে ৭৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। ইনিংস ও ১৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

তৃতীয় টেস্টে ডেভিড অ্যালান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। এরপর আরেকটি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। পোর্ট অব স্পেনে ৪ এপ্রিল, ১৯৬২ তারিখে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে আবারও পাঁচটি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, একটি স্ট্যাম্পিং ও চারটি ক্যাচ ছিল। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেন। ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আবারও তিনি ডেভিড অ্যালানের কাছে স্থানচ্যূত হন। এটিই তাঁর সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ ছিল। তবে, ১৯৬৩ সালের ইংল্যান্ডের পরবর্তী সফরে ডেরিক মারেকে প্রাধান্য দেয়া হলে আর তাঁকে দলে রাখা হয়নি।

বিশ্বস্ত উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল। দূর্ভাগ্যবশতঃ নিজের স্বর্ণালী সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ঠাঁই পেতে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছিল।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। দীর্ঘদিন কণ্ঠনালী ও প্রোস্টেট ক্যান্সারে ভুগছিলেন। অতঃপর, ১৪ জুন, ২০১৪ তারিখে গায়ানার ডেভিস মেমোরিয়াল হাসপাতালের ৭৯ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। গ্রিমসবি টাউন ও চার্লটন অ্যাথলেটিকের স্ট্রাইকার ক্লাইভ মেনডঙ্কা সম্পর্কে তাঁর ভ্রাতৃষ্পুত্র।

সম্পৃক্ত পোস্ট