১২ জুলাই, ১৯৬৯ তারিখে এসেক্সের সাউথএন্ড-অন-সী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার, লিচেস্টারশায়ার এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। প্রাণবন্তঃ বামহাতি পেসার ছিলেন ও কঠোর সময় সচেতনতার কারণে সুনাম কুড়ান। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। শীল্ডের চূড়ান্ত খেলায় কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিজয়ের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম খেলেন।
১৯৮৮ সালের পরবর্তী গ্রীষ্মে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে প্রথম খেলেন। কয়েক বছর পর অবশেষে লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে স্থায়ীভাবে খেলতে থাকেন। ১৯৯৬ সালে দারুণ খেলার সুবাদে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৯ টেস্ট ও ৫০টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৯৬ সালে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৬ জুন, ১৯৯৬ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মিন প্যাটেল ও রনি ইরানী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৬০ ও ২/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। নাসের হুসাইনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। এ সিরিজে পর্যাপ্ত সফলতা পান।
একই বছর নিজ দেশে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২২ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩/৯৭ ও ১/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৪ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ওয়াসিম আকরামের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় দিন দলীয় সংগ্রহ ৩২১/৯ ও ব্যক্তিগত ১৯ রানে থাকাকালীন ওয়াকার ইউনুসের বলে ডিপ স্কয়ার লেগ অঞ্চলে দণ্ডায়মান ইজাজ আহমেদ ক্যাচ ফেলে দিলে জীবন ফিরে পান ও এক রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, খেলার পঞ্চম দিনে তাঁকে বিদেয় করে ওয়াসিম আকরাম ৩০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে দেন। তবে, মুশতাক আহমেদের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
তবে, পরবর্তী বছরগুলোয় নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ১/৫৫ ও ২/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৯৯ সালে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৯ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে সিডি ম্যাকমিলানের প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ২/৩৪ ও ২/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি ৫ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ক্রিস কেয়ার্নসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮৩ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৫ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১০ ও ০* রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে শন পোলকের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। অ্যালান ডোনাল্ডের বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৪ জানুয়ারি, ২০০০ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ও ছেড়ে দেয়া খেলায় তিনি ২/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে তাঁকে মাঠে নামতে হয়নি। ২ উইকেটে জয়লাভ করলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০১ সালে নিজ দেশে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ আগস্ট, ২০০১ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৬৫ ও ১/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে গ্লেন ম্যাকগ্রা’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। মার্ক বুচারের অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ছয় উইকেটে জয়লাভ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
ওডিআইয়ে অবশ্য ওভার প্রতি ৩.৮৪ গড়ে রান খরচ করে নিজেকে অধিকতর উপযোগী করে তুলেছিলেন। ওডিআইয়ে অনেকগুলো রানের সন্ধান পেয়েছেন। তবে, টেস্টে কেবলমাত্র একবারই ভূমিকা রেখেছিলেন। মেলবোর্ন টেস্টে গ্লেন ম্যাকগ্রা’র বল লড়াকুচিত্তে মোকাবেলা করে ১৬ রান তুলেছিলেন। ঐ টেস্টে ইংল্যান্ড দল ১২ রানে জয় পেয়েছিল। পাশাপাশি, ১০-৪-২০-২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন।
টেস্টের তুলনায় নিম্ন স্তরের খেলায় অধিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৮.১৮ গড়ে ৭০৮ উইকেট পেয়েছেন। এছাড়াও, দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। লিস্ট-এ ক্রিকেটে ৩৬২ উইকেট দখল করেছেন। লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেট জীবন শুরু করলেও ২০০০ সালে হ্যাম্পশায়ারে চলে যান। শেষোক্ত দলের পক্ষে খেলেই অধিক লাভবান হন। শেন ওয়ার্নের প্রভাবে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে তাঁর খেলাকে নতুন দিকে নিয়ে যায়।
খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ দুই মৌসুমে হ্যাম্পশায়ারের যুবনীতি অবলম্বন এবং ক্রমাগত গোঁড়ালীর আঘাতের কবলে পড়লে দলে খেলার সম্ভাবনা কমতে থাকে। এক পর্যায়ে ২০০৫ সাল শেষে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। পার্থে স্বীয় মাতার সাথে বসবাস করছেন।
