৯ জানুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে জ্যামাইকার পোর্ট মারিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং ও স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ফ্রি স্টেট ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্কশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৯২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৫৪ টেস্ট ও ১২৭টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯২ সালে নিজ দেশে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৮ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। কেনি বেঞ্জামিন ও ডেভিড উইলিয়ামসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১১ ও ৭৯* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ৪/৪৩ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কার্টলি অ্যামব্রোসের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫২ রানে জয়লাভ করে।

টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা তাঁর বেশ দূর্দান্ত হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে ভারত সফর শেষে তিনি ৮৬.৩১ গড়ে ১১২২ রান তুলেছিলেন। তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনকে দুই অংশে ভাগ করা যায়। প্রথম অংশে ৬১.৩৪ গড়ে অবিশ্বাস্য রান সংগ্রহের বিপরীতে দ্বিতীয়াংশে ২৫.৫৮ গড়ে রান পেয়েছিলেন। এটিই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে-কোন টেস্ট ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ পার্থক্য হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছে।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৫১ রান সংগ্রহ করেন। ব্রায়ান লারা ও জুনিয়র মারে’র শতকের সাথে তিনিও টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগৃহীত ৬৬০/৫ডি. রানের চতুর্থ দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, এটিই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ খরুচে রান ছিল। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ বোলিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩২২ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯০-এর দশকের দ্বিতীয়ার্ধ্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাধান্য খর্ব হবার সাথে সাথে তাঁর খেলায়ও ছন্দপতন ঘটতে থাকে। ১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে সমারসেটের বিপক্ষে অপর্যাপ্ত আলোয় প্রস্তুতিমূলক খেলায় বাউন্সারে থুতুনিতে গুরুতর জখম হন। এরফলে, আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়।

১৯৯৫ সালে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৪ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অভিষেকধারী ডমিনিক কর্কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণ করে।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২৭ এপ্রিল, ১৯৯৬ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ১৭৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। ২০৮* ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ ০/৬০ ও ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভসহ ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৯ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৩০ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রেই গ্লেন ম্যাকগ্রা’র বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ১/১১ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অনিন্দ্যসুন্দর অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১২৪ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের (২১৩) কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়।

অত্যন্ত রক্ষণাত্মক ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি পান। আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের তলানীতে থাকা অবস্থায় টালমাটাল পরিবেশে দলের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। ২০০০ সালের শুরুতে দায়িত্ব লাভের পর জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ বিজয়ে দলকে নেতৃত্ব দেন। বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট পর্যন্ত এ সাফল্য পান। তবে, পরবর্তী ৯ টেস্টের আটটিতেই পরাজয়বরণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। তন্মধ্যে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ পরাজয় অন্যতম ছিল। অধিনায়কত্ব থেকে বরখাস্ত হন ও দল থেকে স্থায়ীভাবে বাদ পড়েন।

২০০০ সালে নিজ দেশে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৮ মে, ২০০০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে বল হাতে নিয়ে ১/৪৫ ও ২/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ ও ৩৪* রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০০০-০১ মৌসুমে ক্যারিবীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৩ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬* ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ইনিংস ও ১২৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে গ্লেন ম্যাকগ্রা’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি রান-আউট ও সমসংখ্যক ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা মাইকেল স্লেটারের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৯৪ সালে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে এক মৌসুম কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। এক পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর, জ্যামাইকার ক্রিকেট ডেভেলপম্যান্ট প্রোগ্রামের টেকনিক্যাল ডাইরেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন। জানুয়ারি, ২০১২ থেকে ২০১৬ সময়কালে কেন্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও, ২০০৮ সাল থেকে ফিকা’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট পরিচালক হিসেবে যুক্ত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট