|

গেভিন হ্যামিল্টন

১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে ওয়েস্ট লোথিয়ানের ব্রক্সবার্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

লিনলিথগো পরিবারের সন্তান তিনি ও কেন্টে পড়াশুনো করেছেন। সিডকাপভিত্তিক হার্স্টমেয়ার সেকেন্ডারি স্কুলে অধ্যয়ন করেন। স্কটল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার সুযোগ পান। এ পর্যায়ে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে দক্ষতার ছাঁপ রাখেন। তবে, শীতকালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমর হেনরি’র তত্ত্বাবধানে নিজেকে আরও শাণিত করেন। ফিরে এসে ওয়েস্ট লোথিয়ান কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবে প্রকৃত মানসম্পন্ন পেস বোলারে খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। এছাড়াও, ইস্ট বায়ার্লি ক্লাবে খেলেছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম ও ইয়র্কশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, স্কটল্যান্ড ও স্কটিশ সল্টিয়ার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ইয়র্কশায়ারের পক্ষে ১৯৯৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত খেলেন ও ১৯৯৮ সালে কাউন্টি ক্যাপ লাভ করেন। ডারহামের পক্ষে ২০০৪ সালে খেলেন। ১৯৯৩ সালে লকসাইড পার্কে স্কটল্যান্ড বনাম এসেক্সের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৯৩ সালে স্কটল্যান্ডের বার্ষিক খেলায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫/৬৫ লাভ করেন। ঐ বছর ইয়র্কশায়ারের দ্বিতীয় একাদশের পক্ষেও কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে কাউন্টির পক্ষে প্রথম একাদশে প্রথমবারের মতো খেলেন। তবে, দলে প্রতিষ্ঠিত হবার জন্যে কয়েক বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ১৯৯৮ সালে দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ঐ গ্রীষ্মে ২০.৫৪ গড়ে ৫৯টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেন। পাশাপাশি ছয়টি অর্ধ-শতক হাঁকান। একদিনের খেলায় ১৮.৯৪ গড়ে ৩৪ উইকেট দখল করেন।

১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। জন্মসূত্রে স্কটিশ নাগরিক হবার সুবাদে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় স্কটল্যান্ডের সদস্যরূপে অংশ নেন। ১৯৯৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দলটিতে খেলেন। এছাড়াও, ২০০৫ সালে আইসিসি ট্রফিতে অংশ নিয়েছেন। এরপূর্বে তিনি ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। ৫ খেলা থেকে ২১৭ রান তুলেন ও মিডিয়াম পেস বোলিং করে ৩ উইকেট নিয়ে দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। ঐ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৫ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্রিস অ্যাডামস ও মাইকেল ভনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি অ্যালান ডোনাল্ডের বলে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ০/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যালান ডোনাল্ডের বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এর পূর্বে ১৬ মে, ১৯৯৯ তারিখে ওরচেস্টারে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০০৮ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। এপ্রিল, ২০০৯ সালে স্কটল্যান্ডের একদিনের আন্তর্জাতিক দলের অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

১৯ আগস্ট, ২০১০ তারিখে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ১৯৯৮ সালে ইংরেজ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শীর্ষ অল-রাউন্ডার হবার সুবাদে ক্রিকেট সোসাইটি উইদেরল পুরস্কার লাভ করেন। ২৯ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে স্কটিশ ক্রিকেট কর্তৃক প্রবর্তিত হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। গ্রিগর ম্যাকগ্রিগর ও মাইক ডেনিসের সাথে তাঁকেও ১২জনের তালিকায় রাখা হয়। পেশায় তিনি ব্রিউরির বিক্রয় ব্যবস্থাপক।

সম্পৃক্ত পোস্ট