৩ জুলাই, ১৯৮৪ তারিখে যশোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
চমৎকার পেস সহযোগে বলকে বলকে সুইং করানোয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ও অনেক সতীর্থদের চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রেখেছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেয়ার মাধ্যমে উত্তরোত্তর নিজেকে সামনের দিকে নিয়ে যান। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে বরিশাল বিভাগ ও খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে প্রথম খেলতে শুরু করেন। তবে, ২০০৫ সালে ২১ বছর বয়সে নিজেকে প্রথমবারের মতো মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। আগস্ট, ২০০৫ সালে বাংলাদেশের ‘এ’ দলের সদস্যরূপে কেন্টের বিপক্ষে দূর্দান্ত বোলিং করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে পাঁচ সপ্তাহের সফরে কেন্টের প্রথম ইনিংসে ৭/৫০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙ্গে ফেলেন ও খেলায় ৯১ রান খরচায় দশ উইকেট পান। তাসত্ত্বেও দল জয় পায়নি। ঐ খেলায় তাঁর দল পরাজিত হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়। শ্রীলঙ্কা গমনার্থে তাঁকে টেস্ট দলের সদস্য করা হয়।
২০০৫ থেকে ২০১০ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট, ৫২টি ওডিআই ও আটটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ইংল্যান্ড সফরের পর ঐ বছরের সেপ্টেম্বরে হাবিবুল বাশারের অধিনায়কত্বে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে বড়দের দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান। এ সফরে টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথম খেলেন। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। শাহরিয়ার নাফিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৯ ও ১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মুত্তিয়া মুরালিধরনের বোলিং সাফল্যে স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৯৬ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
চামিণ্ডা ভাসের অনুরূপ বামহাতে বোলিং করে দুই খেলা থেকে ছয় উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪/১২৯ লাভ করেন। ঐ টেস্টে বাংলাদেশ দল ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়। এছাড়াও, টেস্ট অভিষেকের পূর্বে একই সফরের ৩১ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন। একই দলের বিপক্ষে তিনি তাঁর প্রথম খেলায় ২/৪২ লাভ করেছিলেন।
নিজ দেশে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। কয়েকমাস পর ফেব্রুয়ারিতে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে ২/২৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এরফলে, স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা তাদের ইতিহাসের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ আস্বাদন করে।
অক্টোবরে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতার পূর্বে ২০০৬ সালে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় পায়ে চোট পান। তবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শারীরিক সুস্থতা লাভে ঐ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে, ডিসেম্বরে নিজ দেশে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচটি ওডিআই নিয়ে গঠিত সিরিজের চারটিতেই অনুপস্থিত ছিলেন। তাসত্ত্বেও, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।
১ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ তারিখে নাইরোবির জিমখানায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক কেনিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেন। ২০০৭ সালের পর থেকে বল থেকে আশানুরূপ সাফল্য পাননি ও প্রায়শঃই শীর্ষ দেশগুলোর বিপক্ষে উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতেন। ২০০৭ সালে মোহাম্মদ আশরাফুলের অধিনায়কত্বে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ১১ জুলাই, ২০০৭ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১০৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ টেস্টে ইনিংস ও ১৯৩ রানে জয়লাভ করে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী হয়।
কয়েক বছর দলে আসা-যাবার পালায় থাকলেও ২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলে জায়গা করে নেন। আবারও একগুচ্ছ সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পর জুলাই, ২০১০ সালে ওডিআই দল থেকে বাদ পড়েন। ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকেন। তবে, একই বছর হলস্টিড ক্রিকেট ক্লাবে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।
২০১৮ সালে পেশাদারী পর্যায়ের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতে প্রবেশ করেন। ১ জুন, ২০২২ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোচ হিসেবে নিযুক্তির কথা জানা যায়। মিশিগানে ডেট্রয়েট ক্রিকেট একাডেমির প্রধান কোচ হিসেবে নিযুক্তি পান। চার বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খেলেন। তন্মধ্যে, ঐ ক্লাবটিতে তিন বছর অবস্থান করেছিলেন। ২০২১ সাল থেকে ম্যাস্কো সাকিব ক্রিকেট একাডেমির বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পূর্বে অপর বাংলাদেশী ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোচের প্রস্তাবনা গ্রহণ করেন। কিংবদন্তীতূল্য ক্রিকেটার মুত্তিয়া মুরালিধরনের ৭০০তম টেস্ট শিকারে পরিণত হন।
