২ জুলাই, ১৯৫২ তারিখে জ্যামাইকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

আকর্ষণীয় ও ছোটখাটো গড়নের অধিকারী তিনি। চৈনিক বংশোদ্ভূত ছিলেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। কেনসিংটনভিত্তিক সিনিয়র কাপ দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭০-এর দশকে জ্যামাইকা দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, শক্তিধর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দলের প্রথম একাদশ দলে ঠাঁই পেতে তাঁকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।

১৯৭০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিশোর দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। শেল শীল্ডে বার্বাডোসের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০ বছর বয়সে ব্যাটিংয়ে নেমে ভ্যানবার্ন হোল্ডার ও কিথ বয়েসের ন্যায় বোলারদের রুখে দিয়ে ৩৫ ও অপরাজিত ২৪ রানের ইনিংস খেলেন। ঐ মৌসুমে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ৬৪ ও ৩৯ রান তুলেছিলেন। তিন মৌসুম শেষে অবশেষে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিপক্ষে তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে সক্ষম হন। খেলায় তিনি অপরাজিত ১০৮ ও অপরাজিত ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পরের মৌসুমে অসাধারণ শতক হাঁকান। দলের সংগ্রহ ৪৩/৩ থাকাকালে জেফ ডুজনের (১১৩) সাথে ২৩৫ রানের জুটি গড়েন। এ পর্যায়ে তিনি ১৪৫ রান তুলেছিলেন।

১৯৭৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে আলভিন কালীচরণের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ভারত ও শ্রীলঙ্কা গমনার্থে যুক্ত হন। ১২ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ঐ টেস্ট খেলেন। ঐ টেস্টে ৬ ও ২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয় পেয়ে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫৮টি খেলায় অংশ নিয়ে পাঁচ শতক সহযোগে ৩৫.১৯ গড়ে ৩২৭৩ রান তুলেছিলেন। ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট চলাকালে সাময়িকভাবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিলেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। এক পর্যায়ে ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে লরেন্স রো’র নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী দলের সদস্যরূপে তৎকালীন নিষিদ্ধঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের খেসারত গুণতে হয় ও আজীবন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন।

সঙ্গীতপ্রেমী হিসেবে নিজেকে পরিচিতি ঘটিয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে ‘কামিং অব জাহ’ শীর্ষক রেকর্ড প্রকাশ করেন। ইএসপিএনে একবার কয়লা শ্রমিক হিসেবে জীবনধারনের কথা প্রকাশ করেছিল। অপরদিকে, ইংল্যান্ডভিত্তিক দ্য টাইমস সংবাদপত্রে গ্রীনিচ ফার্মে বসবাসের কথাসহ তাঁর আর্থিক দূরবস্থার কথা তুলে ধরে।

সম্পৃক্ত পোস্ট