২৪ মার্চ, ২০০০ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে মিস আইনাক রিজিওন, স্পিন গড় রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, পাঞ্জাব কিংস, গুজরাত টাইটান্স, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুদা ফ্যালকন্স, ইতেফাক ক্রিকেট ক্লাব, জাফনা কিংস, পাকতিয়া রয়্যালস, অ্যামো রিজিওন, অ্যামো শার্কস, মাইওয়ান্দ ডিফেন্ডার্স, কাবুল ঈগলস, কাবুল প্রভিন্স, এমআই কেপটাউন, মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা, রংপুর রাইডার্স, মন্ট্রিল টাইগার্স, নর্দার্ন ওয়ারিয়র্স, পেশাওয়ার জালমি ও আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ২৫ মার্চ, ২০১৮ তারিখে কুনারে অনুষ্ঠিত মিস-আইনাক বনাম স্পিন-গড়ের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
বিপিএলে উৎসাহব্যঞ্জক ক্রীড়শৈলী প্রদর্শন করেন। ১৫ উইকেট দখল করেন। এরপর, পিএসএলে পেশাওয়ার জালমি’র সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। এখানেও দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন।
অল-রাউন্ডার হিসেবে পাওয়ারপ্লেতে ফাস্ট-বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে মারকুটে ভঙ্গীমা সহকারে বড় ধরনের রান সংগ্রহ ক্রিকেট জগতে সর্বদাই অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তিনিও এর ব্যতিক্রম নন। স্পিন-নির্ভর আফগানিস্তান দলকে আরও সুসংগঠিত দলে পরিণত করতে প্রধান ভূমিকা রাখছেন।
খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বোলিংয়ে দক্ষতা সাধারণমানের ছিল। তবে, বেশ পরিশ্রম করে বোলিং রপ্ত করেন ও নিজেকে আফগানিস্তানের প্রধান সিম-বোলিং অল-রাউন্ডারে পরিণত করেন। খুব শীঘ্রই অভিজ্ঞতাপুষ্ট গুলবাদিন নায়েবের তুলনায় এগিয়ে আনেন।
২০২১ সাল থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। জানুয়ারি, ২০২১ সালে ওডিআইয়ে ও ২০২২ সালে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো খেলেন। তবে, ২০২৩ সালে নিজেকে মেলে ধরেন। জুলাই, ২০২৩ সালে ওডিআইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতক হাঁকান। এরপর, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৬২ রানের মনোরম ইনিংস উপহার করেন। এ ধরনের ইনিংস খেলার ফলে তাঁকে ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনায় আনা হতে থাকে। একই প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আবারও অপরাজিত দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন।
জানুয়ারি, ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্মরণীয় ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ৩৮৩ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ধাবিত আফগানিস্তান দলের সংগ্রহ ১৯/৩ থাকাকালে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন। এক পর্যায়ে দলীয় সংগ্রহ ৫৫/৫ হয়। তবে, মোহাম্মদ নবি’র সাথে ২৪২ রানের জুটি গড়েন। ১৪৯ রানে অপরাজিত থাকলেও খুব কাছাকাছি পর্যায়ে থেকে আফগানিস্তান দল পরাজয়ের কবলে পড়ে।
পূর্ববর্তী বছরে দূর্দান্ত খেলার সুবাদে তাঁকে আইপিএলে খেলার সুযোগ এনে দেয়। মূলতঃ গুজরাত টাইটান্সে অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হার্দিক পাণ্ড্য’র পরিবর্তে খেলেন। ২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের প্রথমবারের মতো সেমি-ফাইনালে পৌঁছানোর বিষয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। সাদিকুল্লাহ আতাল ও আল্লাহ গজনফরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১/৬৬ ও ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্রায়ান বেনেটের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০২৬ সালে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ৬ জুন, ২০২৬ তারিখে নিউ চণ্ডীগড়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা অভিষেক ঘটা মানব সুতারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ইনিংস ও ৩০০ রানে জয়লাভ করে।
