৩ নভেম্বর, ১৯০০ তারিখে ডারহামে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

শিশু অবস্থাতেই ছয় বছর বয়সে পিতা-মাতার অভিবাসনের সুবাদে ইংল্যান্ড থেকে নিউজিল্যান্ডে চলে আসেন। লেগ-স্পিন বোলার হিসেবে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তবে পরবর্তীতে ব্যাটিংকে অগ্রাধিকার দেন ও বোলিংকে দ্বিতীয় পছন্দে পরিণত করেন। নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট খেলার পূর্বেই উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। ১৯২৭ সালে ইংল্যান্ড সফরে দারুণ খেলেছিলেন। ১৯১৭-১৮ মৌসুম থেকে ১৯৩৪ সময়কাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৩০ থেকে ১৯৩২ সময়কালে সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে নয় টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তন্মধ্যে, সাতটি ইংল্যান্ড ও দুইটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। তবে, সর্বোচ্চ স্তরের ক্রিকেটে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, এটিই নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলা ছিল। অ্যাল্বি রবার্টস, স্টুই ডেম্পস্টার, টেড ব্যাডকক, জর্জ ডিকিনসন, হেনরি ফোলি, ম্যাট হেন্ডারসন, কার্লি পেজ, টম লরি ও বিল মেরিটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪৫* ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১৭ ও ২/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৩১ সালে টম লরি নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড গমন করেন। এটিই নিউজিল্যান্ড দলের প্রথম বিদেশ সফর ছিল। ২৭ জুন, ১৯৩১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৯৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ ০/১২৪ ও ১/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৩১-৩২ মৌসুমে নিজ দেশে জক ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৪ মার্চ, ১৯৩২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২৫ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩৮ ও ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

কিন্তু, ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ওয়েস্ট ক্রাইস্টচার্চের পক্ষে দারুণভাবে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। রিকার্টনের বিপক্ষে খেলার এক পর্যায়ে আট-বল নিয়ে গড়া এক ওভার থেকে সাত ছক্কায় ৪২ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, ওতাগোর সদস্যরূপে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে মিনিটপ্রতি ৩৩৮ রান তুলেন। এক পর্যায়ে বার্ট সাটক্লিফ, গ্লেন টার্নার, কেন রাদারফোর্ডমার্ক রিচার্ডসনের সাথে পাঁচজন নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ত্রি-শতক হাঁকানোর অধিকারী। প্রায় সতেরো বছরব্যাপী প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ৪০.৯৯ গড়ে ১৫ শতক সহযোগে ৭৯৫৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩১.১৬ গড়ে ২১৩ উইকেটের সন্ধান পান।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর বেতার ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৪৯ সালে ইংল্যান্ড সফরে আসা নিউজিল্যান্ড দলের সিরিজ চলাকালে বিবিসি দলে যোগ দেন। এছাড়াও, বেশ সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। ১৯৬৫ সালে এমবিই পদবীতে ভূষিত হন। এক বছর পর ২২ জুন, ১৯৬৬ তারিখে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে ৬৫ বছর ২৩১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট