|

জশুয়া ডা সিলভা

১৯ জুন, ১৯৯৮ তারিখে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হবার পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

মাইকেল ও ক্যারোলিন দম্পতির সন্তান। পর্তুগীজ বংশোদ্ভূত তিনি। ‘জোশ’ ডাকনামে ভূষিত জশুয়া দা সিলভা পোর্ট অব স্পেনভিত্তিক সেন্ট মেরিজ কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। এখানে অধ্যয়নকালে ক্রিকেট ও ফুটবল – উভয় খেলাতেই অংশ নিতেন। তবে, কেবলমাত্র ১৬ বছর বয়সেই ক্রিকেটের দিকে মনোনিবেশ ঘটিয়েছিলেন। কুইন্স পার্ক সিসি’র দলীয়সঙ্গী ড্যারেন ব্র্যাভোকে পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০১৭ সালে কাইরন পোলার্ড বৃত্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের সারের ওল্ড উইম্বলডোনিয়ান্সের পক্ষে তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখযোগ্য সফলতার স্বাক্ষর রাখেন।

২০১৮ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টসের পক্ষে খেলেছেন। ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে তরুবায় অনুষ্ঠিত ত্রিনিদাদ ও টোবাগো বনাম উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের মধ্যকার খেলায় তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়। ২০১৯-২০ মৌসুমে দূর্দান্ত সময় অতিবাহিত করেন। ফলশ্রুতিতে, ২০২০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংরক্ষিত খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ড সফরের জন্যে মনোনীত হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় প্রস্তুতিমূলক খেলায় অপরাজিত ১৩৩ ও অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংস খেলে মূল দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। ২০২০ মৌসুমের সিপিএলকে ঘিরে সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টস দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫০.৭০ গড়ে ৫০৭ রান তুলেন। টিএন্ডটি দল থেকে দিনেশ রামদিনের চলে যাওয়ায় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ এমার্জিং প্লেয়ার্স দলের বিস্ময়করভাবে রিজিওনাল সুপার৫০ প্রতিযোগিতায় অপূর্ব খেলেন। গ্রুপ পর্বে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের বিপক্ষে অপরাজিত শতক হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেন।

২০২০ সাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। ২০২০-২১ মৌসুমে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১১ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অংশ নেন। চেমার হোল্ডারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, ব্রেন্ডন ন্যাশের পর প্রথম শ্বেতাঙ্গ খেলোয়াড় হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। হেনরি নিকোলসের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১২ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

এর কিছুদিন পর বাংলাদেশ সফরে যান। ২০ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৪ মার্চ, ২০২২ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। শেন ডোরিচের আঘাতের কারণে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ২৬ মার্চ, ২০২২ তারিখে অপরাজিত ১০০ রানের নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকানোর পর আবেগে তাঁর চোখে জল এসে যায়। গ্রেনাডায় অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে একবার ব্যাটিং নেমে এ সাফল্য পান। নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে আলজারি যোসেফ, কেমার রোচজেডেন সিলসের সাথে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ৯৩ রানে এগিয়ে নিয়ে যান। ক্রেগ ওভারটনের বলে চার হাঁকিয়ে তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে দলকে ১০ উইকেটে জয় এনে দেয়ার পাশাপাশি সিরিজ জয়লাভে ভূমিকা রাখেন।

২০২২-২৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষকের দায়িত্বে থেকে সাতটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এইডেন মার্করামের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮৭ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২৩ সালে নিজ দেশে রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুলাই, ২০২৩ তারিখে রোজিওতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও,  উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। তবে, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দূর্দান্ত বোলিং ও যশস্বী যশওয়ালের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪১ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০২৩-২৪ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৭৯ ও ৭ রান সংগ্রহ করে দলের ৮ রানের নাটকীয় বিজয়ে অংশ নেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসের প্রথম দিনে কাভেম হজের (৭১) সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ১৪৯ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নড়বড়ে ভিত্তিকে মজবুতকরণে অগ্রসর হন। ১১টি দিবা-রাত্রির টেস্টে এটিই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি ছিল। এছাড়াও, পুরো সিরিজে এটিই প্রথম শতরানের জুটি ছিল। এরফলে দীর্ঘ ২৭ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বহুল প্রত্যাশিত প্রথম জয়ের সন্ধান পায় ক্যারিবীয় দল। ঐ সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্রয়ে পরিণত হয়। দলের অপ্রত্যাশিত বিজয়ে ব্রায়ান লারাকার্ল হুপার – উভয়েই আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২২ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশী দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ২২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, জাস্টিন গ্রিভসের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে সফরকারীরা ২০১ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ১২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, তাইজুল ইসলামের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ১০১ রানে জয় পেয়ে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট