|

আর্থার কনিংহ্যাম

১৪ জুলাই, ১৮৬৩ তারিখে ভিক্টোরিয়ার এমারল্ড হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৮৯০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ইংরেজ বংশোদ্ভূত দম্পতি – উইলিয়াম কনিংহ্যাম ও জেন অ্যান দম্পতির সন্তান ছিলেন। সর্বক্রীড়ায় পারদর্শী ছিলেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি স্প্রিন্টার, বন্দুকচালনা, বিলিয়ার্ডস, ফুটবল, নৌকাবাইচ, কবুতর শিকারের পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। তবে, ক্রিকেট খেলাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবে খেলতেন। ডিসেম্বর, ১৮৮৪ সালে কুইন্সল্যান্ডে চলে যান। ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৫ থেকে জানুয়ারি, ১৮৮৯ তারিখের মধ্যে তিনটি প্রতিনিধিত্বমূলক খেলায় অংশ নেন। ১৮৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ১৮৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সিডনিতে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ৩০ রান সংগ্রহের পর ৪/৯০ ও ৫/৭৯ লাভ করলে তাঁকে অ্যাশেজ সফরের জন্যে মনোনীত করা হয়।

১৮৯৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ২৬ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় ও দূর্ভাগ্যজনকভাবে ৩জন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে একটিমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৮৯৩ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। সফরের শুরুটা বেশ ভালো করেন। আকফিল্ডে লর্ড শেফিল্ড একাদশের বিপক্ষে ৫/৭৪ লাভ করেন। তবে, অপরাপর খেলাগুলোয় অংশ নিয়ে ১২.৮০ গড়ে ২৬০ রান তুলেন ও ২৫.৬০ গড়ে ৩৮ উইকেট দখল করেছিলেন। ১২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ১৮.৪০ গড়ে ২৭ উইকেট পান। লিভারপুলে অনুষ্ঠিত লিভারপুল ও ডিস্ট্রিক্টের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা খেলা প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ৩/৫৯ ও ৬/৪১ নিয়ে আয়োজক দলকে ৮৫ ও ৭৬ রানে গুটিয়ে ফেলতে ভূমিকা রাখেন। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। টেমসে ডুবন্ত বালকের উদ্ধার কর্মে অংশ নেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ পদক লাভ করেন।

১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ ডিসেম্বর, ১৮৯৪ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঘটনাবহুল এ টেস্টে প্রথম বলেই আর্চি ম্যাকলারিনকে হ্যারি ট্রটের মুঠোয় দিয়ে বিদেয় করেন। এরফলে, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে প্রথম বলে উইকেট লাভের কৃতিত্বের অধিকারী হন। খেলায় তিনি ১০ ও ৩ রান এবং ২/১৭ ও ০/৫৯ লাভ করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অ্যান্ড্রু স্টডার্টকে লক্ষ্য করে বিমার ছুঁড়লে নো-বল শুনেন। স্বাগতিকরা ৯৪ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ২৩.২৪ গড়ে ১১২ উইকেট লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে এক শতক সহযোগে ১৫.৭১ গড়ে ৮৯৬ রান তুলেন।

ইংল্যান্ড সফরের পূর্বে ১১ মার্চ, ১৮৯৩ তারিখে সিডনির সেন্ট ম্যাথুজ অ্যাংলিকান চার্চে ইংরেজ বংশোদ্ভূত ক্যাথলিক অ্যালাইস স্ট্যামফোর্ড ডাউলিংয়ের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ১৩ জুন, ১৯৩৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্ল্যাডসভিল মানসিক হাসপাতালে ৭৫ বছর ৩৩৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট