১২ জুন, ১৯৪৮ তারিখে ডমিনিকার বায়োচি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দলীয় সঙ্গী ও সমর্থকদের কাছে ‘নবি’ আদুরে ডাকনামে আখ্যায়িত হয়েছিলেন। প্রাণবন্তঃ পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি বলকে উভয় দিক দিয়ে ঘুরাতে পারতেন। মাঝে-মধ্যে পেস বোলিংয়ে অতিরিক্ত দূরত্ব বজায় রাখতেন। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে মারকুটে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুম থেকে ১৯৮৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে কম্বাইন্ড আইল্যান্ডস ও উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে কম্বাইন্ড আইল্যান্ডসের সফলতায় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৮৩ সালে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে কোলনের পক্ষে খেলেছেন। এরপর, ১৯৭৮ সালে এসেক্সের সাথে যুক্ত হন ও বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে কিথ বয়েসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। এ পর্যায়ে প্রকৃত মানসম্পন্ন পেস আনয়ণে বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করতেন। চমৎকার ও কার্যকর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে সচেষ্ট ছিলেন। এ সময়েই ক্লাবটি তাদের ইতিহাসের প্রথম বড় ধরনের সফলতা অর্জনে সমর্থ হয়। ১৯৭৯ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপ ও বেনসন এন্ড হেজেসের দ্বৈত শিরোপা বিজয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। স্বর্ণালী সময় অতিবাহিতকালে ৪১৭ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ২১.৮৯ গড়ে ৬৬ উইকেট নিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, এক মাস পূর্বে বেনসন এন্ড হেজেস প্রতিযোগিতায় দলের প্রধান সদস্য হিসেবে সারের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় ৩ উইকেট নিয়ে চেমসফোর্ডকে একদিনের শিরোপা এনে দেন।

১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে দলের অধিকাংশ সদস্য চলে গেলে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন দূর্বলতর অজি দলের দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ১৯৭৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশ নেন। ব্যাসিল উইলিয়ামস, ডেভিড মারে, আলভিন গ্রীনিজ, শিবু শিবনারায়ণ ও সিলভেস্টার ক্লার্কের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/৭৫ ও ২/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর দল ৩ উইকেটে পরাজিত হলেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

একই সফরের ১২ এপ্রিল, ১৯৭৮ তারিখে কাস্ট্রিজে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে আলভিন কালীচরণের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১০* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে এসে আঘাতের কবলে পড়লে তাঁর গতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। আগ্রাসী ও নিখুঁত ব্যাটসম্যান হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। নিজস্ব প্রথম মৌসুমে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩৪ রান তুলেছিলেন। পাশাপাশি, চ্যাম্পিয়নশীপে ৬৫ উইকেট দখল করেছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট