২৬ জানুয়ারি, ১৯১৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে ১৯৪৯-৫০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪০-এর দশকে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা ছিলেন। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। উইকেটের চতুপার্শ্বে সামনে ও পিছনের উভয় পা ব্যবহারে অগ্রসর হতেন। দৃঢ় মনোসংযোগ ঘটাতেন। যতটুকু সম্ভব রান সংগ্রহ করতে তৎপরতা দেখাতেন।
বোম্বের খোজা সম্প্রদায়ভূক্ত জমিদার পরিবারের চার সন্তানের জ্যেষ্ঠ ছিলেন। সেন্ট জাভিয়ার্সে অধ্যয়ন করেন। প্রতিভাবান ছাত্র হিসেবে গণিতে তাঁর অসম্ভব দক্ষতা ছিল। মাকারান্দ বাইঙ্গাকর তাঁর ‘এ মিলিয়ন ব্রোকেন উইন্ডোজ: দ্য ম্যাজিক এন্ড মিস্টিক অব বোম্বে ক্রিকেটে’ উল্লেখ করেছেন যে, ‘তিনি দারুণ বুদ্ধিমান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন … জটিল সমস্যাগুলো সমাধানে দক্ষতার পরিচয় দিতেন ও গণিতে বিশাল নম্বর পেতেন।’
এক দশকের অধিক সময় ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রমাগত রানের ফুলঝুঁড়ি ছোটান। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এক পর্যায়ে ৬১.২৪ গড়ে ৪৭১৬ রান পেয়েছিলেন। এরফলে, সর্বকালের তালিকায় অষ্টম স্থান দখল করেন তিনি। মাধব মন্ত্রী ইএসপিএনক্রিকইনফোয় মন্তব্য করেন যে, ৫০ ও ৬০-এর দশকে তরুণদেরকে ‘‘কেসি’র ন্যায় ব্যাট করো। উইকেটে টিকে থাকো ও রান নিশ্চিতরূপেই আসবে’ বলতে শোনা যেতো।
পেন্টাগুলার অভিষেক খেলায় তেমন সুবিধে করতে পারেননি। অধিকন্তু, তিন মৌসুমের অধিক সময়ে প্রথম সাত খেলায় মাত্র একটি অর্ধ-শতক সহযোগে ১৭৪ রান তুলেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের খেলায় আশানুরূপ রান পেলেও এর ধারা প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিয়ে যেতে পারেননি। ১৯৩৯-৪০ মৌসুমের রোহিতন বাড়িয়া ট্রফিতে ছন্দ খুঁজে পান। উপর্যুপরী ইনিংসগুলোয় ৩০, ১২০*, ৫১, ৫৩ ও ৭৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় ৮৬ গড়ে ৪৩০ রান তুলে হিমু অধিকারী’র ২৯২ রানের তুলনায় নিজেকে সর্বাগ্রে নিয়ে যান। ১৯৪২ সালে সেন্ট জাভিয়ার্স কলেজ দলে রুসি মোদি, আনোয়ার শেখ, রুসি কুপারের সাথে একত্রে খেলেন।
পরের বছর রঞ্জী ট্রফিতে অংশ নেয়ার সুযোগ হয় তাঁর। ৬১ রানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তী মৌসুমে ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ২৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। বিজয় মার্চেন্টের সাথে তাল মিলিয়ে পুরো প্রতিযোগিতা মাতিয়ে রাখেন। মহীশূরের বিপক্ষে বোম্বে দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। এ পর্যায়ে বিজয় মার্চেন্ট তাঁর তুলনায় ৫৬ রান বেশী এগিয়েছিলেন।
১৯৪৪-৪৫ মৌসুমের বোম্বে পেন্টাগুলারের চূড়ান্ত খেলায় মুসলিম দলের সদস্যরূপে খেলেন। ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে হিন্দু দলের ২৯৮ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে স্মরণীয় খেলা উপহার দেন। দীর্ঘ ৩৪৯ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে খেলা শেষ হবার ৫ মিনিট পূর্বে মিড-উইকেটে বল ফেলে দলের এক উইকেটের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন। ইনিংস উদ্বোধনে নেমে শুঁটে ব্যানার্জী, দাত্তু ফাড়কর, সিএস নায়ড়ু, চান্দু সরবটে ও বিনু মানকড়ের বল মোকাবেলা করে ১৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অধিনায়ক মুশতাক আলী পরবর্তীতে স্বীয় আত্মজীবনী ‘ক্রিকেট ডিলাইটফুলে’ উল্লেখ করেছেন যে, ‘ইব্রাহীম জীবনের সেরা খেলা উপহার দিয়েছেন। তিনি জিব্রাল্টারের প্রাচীর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন।’
১৯৪৮ থেকে ১৯৪৯ সময়কালে ভারতের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিলেন। পূর্ববর্তী মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলার সুবাদে টেস্ট দলে জায়গা করে নেন। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১০ নভেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে দিল্লিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। কেকি তারাপোরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট অভিষেক পর্বটি দারুণ হয়েছিল। বিনু মানকড়ের সাথে উদ্বোধনী জুটি গড়েন। ৮৫ ও ৪৪ রান তুলেছিলেন। তবে, পরবর্তী ছয় ইনিংস থেকে সর্বসাকুল্যে মাত্র ৪০ রান তুলতে পেরেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ০-০ ব্যবধানে এগুতে থাকে।
একই সফরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে বোম্বের বিএসে অনুষ্ঠিত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জেরি গোমেজের শিকারে পরিণত হয়। ঐ খেলাটি ড্রয়ে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৫১-৫২ মৌসুমে ইংল্যান্ড সফরের পূর্বেই অবসর গ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে করাচীতে চলে যান। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। ১২ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে নিজ গৃহে ৮৮ বছর ২৯০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন ভারতের বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়েছিলেন।
