৩০ এপ্রিল, ১৯২২ তারিখে কেপ প্রভিন্সের গ্রাহামসটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ডানহাতে জোড়ালো ব্যাটিং করতেন ও নিখুঁত মানসম্পন্ন মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ে অংশ নিতেন। এছাড়াও, সীমানা বরাবর দূরন্ত ফিল্ডিংয়ের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৫২ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫২ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কেন ফানস্টনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৮ ও ১১* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬৩ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯৬ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এ সিরিজের চার টেস্টে অংশ নেন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৫২ তারিখে মেলবোর্নে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৫১ রানের কার্যকর ইনিংস উপহার দেন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে চালকের আসনে নিয়ে যান। এরফলে, ৪২ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর দল প্রথমবারের মতো জয়লাভে সক্ষম হয়। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, পঞ্চম টেস্টটিতে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের কারণে খেলতে পারেননি।

এ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলেন। এ সফরের শেষদিকে ৬ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। নিজের একমাত্র শতরানের ইনিংস খেলেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫১ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে নিজস্ব প্রথম শতরানের সন্ধান পান। এ পর্যায়ে তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১০৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র সাথে সপ্তম উইকেটে ২৪৬ রান তুলে তৎকালীন বিশ্বরেকর্ড দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩/৩০ ও ২/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮০ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরফলে, তাঁকে দেশে ফিরে আসতে হয়। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিজ দেশে বার্ট সাটক্লিফের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১//৩০ ও ১/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১৩২ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ১/৪৯ ও ১/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিক দল ৫ উইকেটে জয়লাভ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৫৫ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে, কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি।

প্রিটোরিয়াভিত্তিক সেন্ট অ্যালবান্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হেড মাস্টার ছিলেন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ২০ বছর এ পদে ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অতঃপর, ১৭ এপ্রিল, ১৯৯৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে ৭২ বছর ৩৫২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট