১৯ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে মিডলসেক্সের চেলসী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘাকায় ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ব্রাডফিল্ড কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। অক্টোবর, ২০১৭ সালে পেশাদারী পর্যায়ে চুক্তিবদ্ধ হন। পূর্ববর্তী গ্রীষ্মে সারের দ্বিতীয়সারির দলে দারুণ খেলার সুবাদে এ চুক্তিতে আসেন। পরবর্তী দুই মৌসুমে বল হাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও প্রথম একাদশে খেলার মতো করে নিজেকে গড়ে তুলেননি। তবে, ২০১৮ সালের শেষদিকে দ্বিতীয় একাদশের এক খেলায় ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে সাত নম্বর অবস্থানে অপরাজিত শতক হাঁকিয়ে বেশ সাড়া জাগান। ভবিষ্যতের বোলিং অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। ২০২০ সালে প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পান ও ২০২১ সালে লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
২০২০-২১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সারে দ্বিতীয় একাদশ, ডেজার্ট ভাইপার্স, ওভাল ইনভিন্সিবলস, কলকাতা নাইট রাইডার্স ও পেশাওয়ার জালমি’র পক্ষে খেলেছেন। ৮ আগস্ট, ২০২০ তারিখে চেমসফোর্ডে এসেক্স বনাম সারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০২২ সালের গ্রীষ্মে সীমিত পর্যায়ে খেলার সুযোগ পান। তাসত্ত্বেও ২৮.৮৪ গড়ে ১৩ উইকেট দখল করে চ্যাম্পিয়নশীপে শিরোপার লড়াইয়ে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, সাদা-বলের ক্রিকেটে শেষেরদিকে বোলিংয়েও বিরাট প্রভাব ফেলেন। তবে, ২০২২ সালে কেবলমাত্র চারটি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপ ও ছয়টি ভাইটালিটি ব্ল্যাস্টের খেলায় অংশ নিয়ে নিজের পরিচিতি তুলে ধরতে সমর্থ হন। এছাড়াও, তাঁর উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত করে ২০২৩ সালের আইএলটি২০ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে ডেজার্ট ভাইপার্সে তাঁকে যুক্ত করা হয়। ভাইপার্স ও হান্ড্রেডের দল ওভাল ইনভিন্সিবলের মধ্যকার সম্পর্কও তাঁকে সহযোগিতা করেছিল। কিন্তু, ১০ খেলায় অংশ নিয়ে ওভারপ্রতি ৭.৮১ রান খরচে মাত্র নয়টি উইকেট পেয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁর পেসের সাথে ছন্দোময় দৌঁড়ানোর ভঙ্গীমা বেশ উল্লেখযোগ্যতার দাবীদার ছিল।
২০২৩ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৪ সালে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জিমি অ্যান্ডারসনের বিদায়ী টেস্টে জেমি স্মিথের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্মরণীয় অভিষেক ঘটে তাঁর ও অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ৭/৪৫ ও ৫/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। নিজেকে লর্ডস অনার্স বোর্ডে ঠাঁই করে নেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল খুব সহজে তিনদিনেই ইনিংস ও ১১৪ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে বেন ফোকস শতক হাঁকিয়ে এ পুরস্কার লাভের পর অষ্টম ইংরেজ খেলোয়াড় হিসেবে তালিকায় যুক্ত হন। তন্মধ্যে, চতুর্থ ইংরেজ হিসেবে লর্ডসে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। টেস্ট অভিষেকের পূর্বেই অবশ্য সেপ্টেম্বর, ২০২৩ সালে নিজ দেশে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
বারোজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে টেস্ট অভিষেকে উভয় ইনিংসে পাঁচ-উইকেট লাভ করেছেন। ১৯৩৪ সালে কেন ফার্নসের পর পঞ্চম ইংরেজ হিসেবে এ সাফল্য পান। ১৯৪৬ সালে ভারতের বিপক্ষে অ্যালেক বেডসারের ১১ উইকেট ও ১৯৭২ সালে বব ম্যাসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬ উইকেট লাভের পর এটিই লর্ডসের টেস্ট অভিষেকে দশ বা ততোধিক উইকেটপ্রাপ্তির ঘটনা হিসেবে চিত্রিত হয়ে পড়ে। দুই ইনিংসে ১০৬ রান খরচায় ১২ উইকেট দখল করে রেকর্ড বহিতে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। ১৯৭৪ সালের পর নিজ দেশে এটিই বারো বা ততোধিক উইকেট লাভের ঘটনা ছিল। লর্ডসে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে ডেরেক আন্ডারউড ৭১ রান খরচায় ১৩ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৮০ সালে বোম্বে টেস্টে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ইয়ান বোথামের ১০৬ রান খরচায় ১৩ উইকেট দখলের পর থেকে তাঁর বোলিং ইংল্যান্ডের পক্ষে সেরার মর্যাদা পাচ্ছে। ১৯৭৪ সালে পোর্ট অব স্পেন টেস্টে ইংল্যান্ডের টনি গ্রেগের ১৫৬ রান খরচায় ১৩ উইকেট লাভের পর তাঁর এ সাফল্যটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেরা হিসেবে চিহ্নিত হয়। নরেন্দ্র হিরবাণী ও বব ম্যাসি’র ১৬ উইকেট ও ১৮৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংরেজ বোলার ফ্রেড মার্টিনের ১২ উইকেট লাভের পর টেস্ট অভিষেকে তাঁর এ বোলিং বিশ্লেষণ চতুর্থ সেরার মর্যাদা পাচ্ছে।
একই বছর নিজ দেশে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৯ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ১১৮ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৪০ ও ৫/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়ানৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯০ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৮ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬১ ও ১/৫৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ব্রাইডন কার্সের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ডিজে মিচেলের দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৩/৬৬ ও ১/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মিচেল স্যান্টনারের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৪২৩ রানের বিরাট ব্যবধানে পরাজিত হলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০২৬ সালে নিজ দেশে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০২৬ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৭৯ ও ২/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৩ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ড্যারিল মিচেলের অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ১৬০ রানে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
