৫ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে সারের লিম্পসফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ফ্রেডরিক আর্নেস্ট লক ও মার্থা এলিজাবেথ দম্পতির সন্তান ছিলেন। শৈশবে ক্রিকেট খেলা দেখতে দেখতে অনুরক্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তাঁর মাঝে ক্রিকেটীয় প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটতে থাকে। চৌদ্দ বছর বয়সে ইংল্যান্ড লিম্পসফিল্ড চার্চ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৪ সালে প্রধানশিক্ষকের সহায়তায় সারের ক্রিকেটার স্যার হেনরি লেভসন-গাওয়ারের সাথে পরিচিত হন।
১৯৪৬ থেকে ১৯৭০-৭১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও সারে এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ও লিচেস্টারশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সপ্তদশ জন্মদিন উদযাপনের কয়েকদিন পরই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১৯৪৯ সালের মধ্যেই সেনাবাহিনীতে জাতীয় সেবায় যোগদানের পর দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শতকবিহীন অবস্থায় সর্বাধিক রান সংগ্রহের ন্যায় রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। তিনি ও ডার্বিশায়ারের বব টেলর শতকবিহীন অবস্থায় দশ সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে অবশ্য ১৯৮১ সালে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে বব টেলর ১০০ রান তুলেছিলেন।
১৯৫২ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে ৪৯ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫২ সালে নিজ দেশে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জুলাই, ১৯৫২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ২০৭ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৫৩ সালে নিজ দেশে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ আগস্ট, ১৯৫৩ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১৯ ও ৫/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৫ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ০ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৭৬ ও ২/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৪০ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১১৬ ও ০/১০০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ক্লাইড ওয়ালকটের মনোরম দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১৮১ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৫৫ সালে নিজ দেশে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ জুলাই, ১৯৫৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/১২১ ও ১/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯* ও ১৭ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৫৬ সালে নিজ দেশে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে রন আর্চারের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। পাশাপাশি, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪৯ ও ১/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। এ সিরিজে স্বাগতিক দল ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ২-২ ব্যবধানে সিরিজে সমতা আনয়ণে সমর্থ হয়েছিল। ১ মার্চ, ১৯৫৭ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২১ ও ১/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৫৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ড্রয়ে পরিণত হয়।
১৯৫৭ সালে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ আগস্ট, ১৯৫৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/২৮ ও ৬/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৩৭ রানে জয়লাভ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৫৮ সালে ক্রিকেটের স্বর্গভূমি খ্যাত লর্ডসে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। নিজ দেশে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। সফরকারীরা একেবারেই খেলার বাইরে ছিল। সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫/১৭ লাভ করেন। এটিই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র পাঁচ-উইকেট লাভের ঘটনা ছিল। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক জন রিড তাঁর প্রথম শিকারে পরিণত হন ও সফরকারীরা মাত্র ৪৭ রানে গুটিয়ে যায়। ফলো-অনের কবলে পড়ে দলটি আবারও তাঁর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এবার তিনি চার উইকেট পান ও খেলাটি দুইদিনেই শেষ হয়ে যায়। প্রতিপক্ষ ৭৪ রানে গুটিয়ে যায়। খেলায় তিনি ২৯ রান খরচায় ৯ উইকেট দখল করেছিলেন।
একই সফরের ৩ জুলাই, ১৯৫৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে জেটি স্পার্লিংয়ের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৬/২০। খেলায় তিনি ৪/১৪ ও ৭/৫১ লাভ করেন। অবশ্য, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে মাঠে নামতে হয়নি। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৪ জুলাই, ১৯৫৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৬১ ও ৭/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৩ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এ সফরের ২১ আগস্ট, ১৯৫৮ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩০ রানের সমকক্ষ হন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৯ ও ১/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৫৮-৫৯ মৌসুমের শীতকালে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/১৭ ও ১/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৯ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২১ ও ১১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/১৩০ ও ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পূর্বের দুই টেস্টে পরাজয়বরণ করলে সফরকারী পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ৫/৩১ ও ৬/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯৯ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৬১-৬২ মৌসুমে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৯৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে কলিন কাউড্রে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৮ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮৯ ও ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬১ ও ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
তাঁকে ঘিরে টনি হিল ‘টনি লক: অ্যাগ্রেসিভ মাস্টার অব স্পিন’ শীর্ষক জীবনীমূলক গ্রন্থ রচনা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৯ তারিখে লিম্পসফিল্ড পারিশ চার্চে অড্রে মে সাগের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির দুই পুত্র ও এক দত্তক কন্যা ছিল। জীবনের শেষদিকে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দুইটি মামলা হয় ও উভয়ক্ষেত্রেই তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। ৩০ মার্চ, ১৯৯৫ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে ৬৫ বছর ২৬৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। পার্থ ক্যাথেড্রালে তাঁর স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
