২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে দলের প্রয়োজনে উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে তাঁর জন্ম। শৈশবকাল অস্ট্রেলিয়ায় অতিবাহিত করেন। পিতা রডনি রেডমন্ড টেস্ট ক্রিকেট অভিষেকে ১০৭ ও ৫৬ রান করলেও আর নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেননি। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও ওতাগো এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এপ্রিল, ২০১৫ সালে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্লাঙ্কেট শীল্ড প্রতিযোগিতায় অকল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার মাধ্যমে তাঁর ১৬ বছরের পেশাদারী খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে।
২০০৭-০৮ মৌসুমে ৪০-এর গড়ে রান সংগ্রহসহ নিউজিল্যান্ডের শীর্ষসারিতে সঙ্কট সৃষ্টি হলে তাঁকে ইংল্যান্ড গমনার্থে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট, ছয়টিমাত্র ওডিআই ও সাতটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৮ সালে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। কিন্তু, সেখানে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের কোনটিতেই দলে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেননি। মাত্র ৫৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।
১৫ মে, ২০০৮ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ড্যানিয়েল ফ্লিনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০ ও ১৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জেমস অ্যান্ডারসনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। দলীয় অধিনায়কের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৩ মে, ২০০৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২৮ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত চ্যাপেল-হ্যাডলি সিরিজে অংশ নেন। এবার স্বরূপ ধারন করেন। অ্যাডিলেড টেস্টে ৮৩ রান তুলেন। তখনও নিজেকে দলের নিয়মিত সদস্যে পরিণত করতে পারেননি। ঘরোয়া পর্যায়ের খেলায় কয়েকটি দূর্দান্ত খেলা প্রদর্শনে ধীরে ধীরে নিজেকে তুলে ধরতে থাকেন।
২০০৮-০৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১৯ ও ৭৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে সাকিব আল হাসানের শিকারে পরিণত হন। পাশাপাশি, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমের ঘরোয়া আসরের টি২০ শিরোপা লাভে ওতাগো ওয়ারিয়র্সকে বিরাটভাবে পরিচালনা করেছিলেন। ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজে দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে সমালোচিত হন। মার্টিন ক্রো তাঁর মাঝে সফলতম টেস্ট খেলোয়াড়ের গুণাবলীর অভাব উল্লেখ করেন।
প্রায় পাঁচ বছর দলের বাইরে থাকার পর ডিসেম্বর, ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের পূর্বে কেন উইলিয়ামসন আঘাতের কবলে পড়লে দলে ফিরে আসেন। তবে, এ সুযোগের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করতে পারেননি। এরফলে, দল নির্বাচকমণ্ডলী দৃষ্টি ঘুরিয়ে তরুণ টম ল্যাথামের দিকে আগ্রহ দেখায়। জানুয়ারি, ২০১৪ সালে টম ল্যাথামকে ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত করলে ৩৪ বছর বয়সী আরন রেডমন্ডকে দলের বাইরে চলে যেতে হয়।
২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দুই ইনিংস থেকে ২০ ও ৬ রান তুলেন। রস টেলরের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
