১০ আগস্ট, ১৯৭৯ তারিখে পানাদুরায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দীর্ঘদেহী মিডিয়াম ফাস্ট বোলার। ‘দিনু’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। এছাড়াও, ২০০০-এর শুরুরদিকে কার্যকরী ব্যাটসম্যান হিসেবে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। বলকে সুইং করানোয় সবিশেষ দক্ষতা আনয়ণে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাদুরেলিয়া স্পোর্টস ক্লাব, পানাদুরা স্পোর্টস ক্লাব এবং সেবাস্টিয়ানিটিস ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন।
সেবাস্টিয়ানিটিসের পক্ষে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেন। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে খেলেন। শুরুতেই প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। কিছু উজ্জ্বীবীত ভঙ্গীমায় খেলায় অংশ নিয়ে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। তবে, নভেম্বর, ২০০৩ সালের পূর্ব পর্যন্ত জাতীয় দলের পক্ষে খেলার সুযোগ ঘটেনি।
২০০১ সালে নিজ দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে ঘিরে কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক খেলায় বোলিং করে সুনাম কুড়ান। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মাইক অ্যাথার্টনকে কয়েকবার শিকারে পরিণত করেছিলেন।
২০০৩ সালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো আন্তর্জাতিকই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৮ নভেম্বর, ২০০৩ তারিখে সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ২/১৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে সবিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
একই সফরের ২ ডিসেম্বর, ২০০৩ তারিখে গলেতে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। ০/২১ ও ১/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মুত্তিয়া মুরালিধরনের প্রাণান্তঃকর প্রয়াস চালানো স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, আর একটিমাত্র টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১০ ডিসেম্বর, ২০০৩ তারিখে ক্যান্ডিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে ৫১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩৬ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় দলনেতার অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। পরবর্তীতে দল থেকে বাদ পড়েন ও আর দলে ফেরার সুযোগ পাননি। ঐ খেলায় একটি অর্ধ-শতক হাঁকালেও উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। দুই টেস্টে সর্বমোট ২১ ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
সফরকারী ইংরেজ দলের বিপক্ষে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। উভয় স্তরের ক্রিকেট থেকে তাঁকে বাদ দেয়া হয়। স্পিন উপযোগী পিচেও তিনি তাঁর দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারেননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিতে থাকেন। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কয়েক বছর ওরচেস্টারশায়ার কাউন্টি লীগের প্রথম বিভাগ প্রতিযোগিতায় ব্রমইয়ার্ড সিসি’র পক্ষে বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন। এরপর, ২০১৫ সালেও খেলেন।
