|

এরিক অ্যাটকিনসন

৬ নভেম্বর, ১৯২৭ তারিখে বার্বাডোসের রকলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। যুবক অবস্থায় বেশ ভালোমানের বোলারের মর্যাদা পেলেও বার্বাডোসের পক্ষে নিজস্ব প্রথম খেলায় তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখেননি। প্রথম নয় খেলা থেকে মাত্র তিন উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, ফাস্ট-মিডিয়াম সুইং বোলিংয়ের কারণে টেস্ট দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। রিভার্স-সুইং নামকরণের অনেক পূর্বেই তিনি দক্ষ ছিলেন।

১৯৫৮ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে নিজ দেশে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩০ বছর বয়সে ১৭ জানুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। কনরাড হান্টের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উদ্বোধনী বোলার হিসেবে খেলেন। জ্যেষ্ঠ ও অধিকতর পরিচিত সহোদর ভ্রাতা ডেনিস অ্যাটকিনসনের সর্বশেষ টেস্টে একত্রে খেলেন। এরফলে, গ্র্যান্ট ও স্টলমেয়ার ভ্রাতৃদ্বয়ের পর তৃতীয় ভ্রাতৃদ্বয় হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট খেলার কৃতিত্বের অধিকারী হন। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ফজল মাহমুদের বলে শূন্য রানে বোল্ড হন। ১/২৭ ও ২/১৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, হানিফ মোহাম্মদের ত্রি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এক মাস পর সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় ৫/৪২ পান। তবে, গ্যারি সোবার্সের ৩৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে কল্যাণে তাঁর এ সাফল্য ঢাকা পড়ে যায়।

পরবর্তীতে, ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে ভারত উপমহাদেশ সফরের জন্যে মনোনীত হন। ঐ মৌসুমে জেরি আলেকজান্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে সফরকারীরা পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ২৬ মার্চ, ১৯৫৯ তারিখ থেকে শুরু হওয়া লাহোর অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে ১২-৮-১৫-৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়ে স্বাগতিক পাকিস্তানকে ১০৪ রানে গুটিয়ে দিতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১/৪০ লাভ করেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। রোহন কানহাইয়ের ২১৭ রানের কল্যাণে দল ইনিংস ও ১৫৬ রানের ব্যবধানে জয় পেলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২৯ মে, ১৯৯৮ তারিখে ৭০ বছর ২০৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট