৩১ জুলাই, ১৯০২ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বেলেভ্যু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ক্রিকেটের সর্বাপেক্ষা প্রভাববিস্তারকারী ও ৬০ বছরের অধিক লর্ডসে বড় ধরনের শক্তি হিসেবে নিজেকে আবির্ভূত করেছিলেন। এটন কলেজে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ১৯২১ থেকে ১৯৫০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। এ পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ১৯২২ থেকে ১৯২৩ সময়কালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। মিডলসেক্সের পক্ষে সর্বমোট ১৪৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৪২০ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯২৯ সালে লর্ডসে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ১০/৪০ লাভ করেন। তন্মধ্যে, আটজনকে বোল্ড করেছিলেন।

১৯৩০ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩০ সালে নিজ দেশে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুন, ১৯৩০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩ ও ৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৭ উইকেটে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সমর্থ হয়।

১৯৩১ সালে নিজ দেশে টম লরি নেতৃত্বাধীন কিউই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। ২৭ জুন, ১৯৩১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৫৭ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকান। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরফলে, এ শতরানের ইনিংস খেলার কল্যাণে প্রথমবারের মতো লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়াও, ১/৪৫ ও ২/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৯ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে জিএল উইয়ারকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৪৭। এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৫/১৪ ও ০/২৩ পান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ না পেলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৬ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৩২-৩৩ মৌসুমে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। বডিলাইন সিরিজে অংশ নেন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৩২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩৫ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হয়।

১৯৩৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে আসা বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের বিপক্ষে অপূর্ব খেলেন। ২৭ জুন ১৯৩৬ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ৭৮ রান খরচায় ১০ উইকেট দখল করেছিলেন। এটিই তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে একমাত্র দশ উইকেট লাভের ঘটনা ছিল। প্রথম ইনিংসে ৫/৩৫ লাভ করেন। স্থিরতা, প্রতিজ্ঞাবদ্ধতা ও বলে আরও পেস আনয়ণে যে-কোন বোলারের চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখেন। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক দল মাত্র ১৩ রানে এগিয়ে যাওয়া অবস্থায় দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও বিস্ময়করভাবে পেসের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। নিজের প্রথম আট ওভারে ১৮ রান খরচ করে ভারত দলের প্রথম চার উইকেট পান। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৫/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে ইংল্যান্ড দল ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। উভয় ইনিংসে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে যুক্ত করেন।

একই সফরের ১৫ আগস্ট, ১৯৩৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৩৭ ও ৭/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ৯ উইকেটে পরাভূত হলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে এমসিসি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩৫ ও ৬৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৭১ ও ৫/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৩২২ রানের ব্যবধানে বিশাল জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১/৩৫ ও ২/৮৪ লাভ করেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ০* ও ১১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৩৬৫ রানে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

এরপর, ২৯ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে তিনি ১১ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬০ ও ০/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় অস্ট্রেলিয়া দল ১৪৮ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতা আনতে সমর্থ হয়।

একই সফরের ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ০ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ২০০ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

৪৫ বছর ২৪৫ দিন বয়স নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ অধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে এমসিসি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৮২ ও ১/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩৬ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৭ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৮৩ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২৩ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১০ উইকেটে পরাজিত হলে তাঁর দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২৯ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে লন্ডনের সেন্ট জন্স উড এলাকায় ৮৭ বছর ১২১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট