২১ মে, ১৯০৬ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ম্যালভার্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯২৬-২৭ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। হ্যান্স এবলিংয়ের অবসর গ্রহণের পর ১৯৩৭-৩৮ ও ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে ভিক্টোরিয়া দলকে নেতৃত্ব দেন।

১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৩০-৩১ মৌসুমে নিজ দেশে জ্যাকি গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৪ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৩০ রানে পরাজয়বরণ করলেও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৩১-৩২ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১২৭ রানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে বিল উডফুল ও ডন ব্র্যাডম্যানের সাথে শতরানের জুটি দাঁড় করিয়েছিলেন।

১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে নববর্ষের প্রাক্কালে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার অবস্থায় জরুরীভিত্তিতে টেস্টে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পান। ঐ মৌসুমে নিজ দেশে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। এ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া দল ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও পরবর্তীতে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছিল। ১ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পোতানো উইকেটে কৌশলগত কারণে ৭৬/৯ তুলে ইনিংস ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সংগ্রহ ৩/২ থাকা অবস্থায় ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে, সাত নম্বরে নামা ডন ব্র্যাডম্যানের (২৭০) সাথে দুই ঘণ্টা সঙ্গ দেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৩৬৫ রানে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৯ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে তিনি ২০ ও ৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে কেন ফার্নসের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলায় অস্ট্রেলিয়া দল ১৪৮ রানে জয়লাভ করে ২-২ ব্যবধানে সিরিজে সমতা আনে।

এরপর, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ২০০ রানে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। টেস্টগুলো থেকে ৩৩.৪১ গড়ে ৪০১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪২ গড়ে ১৪ শতক সহযোগে ৫৫৪৪ রান তুলেছেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে বারো মৌসুম রাজ্য দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব কমিটিতে যোগ দেন। ২৩ মৌসুম ক্লাবের প্রতিনিধি হিসেবে ভিক্টোরিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে যোগ দেন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৯৮০-৮১ মৌসুম পর্যন্ত সহঃসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে ক্লাবের আজীবন সদস্যরূপে মনোনীত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৯৩২ সালে এলসা হকিংয়ের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ম্যালভার্ন এলাকায় ৮৮ বছর ২৮৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট