১২ ডিসেম্বর, ১৯৫৪ তারিখে সেন্ট ভিনসেন্টের ট্রুমাকা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘উইল্ফ’ কিংবা ‘স্ল্যাকি’ ডাকনামে ভূষিত উইল্ফ স্ল্যাক ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ওয়েলসবোর্ন সেকেন্ডারি স্কুলে অধ্যয়ন শেষে হাই ওয়েকম্বে পড়াশুনো করেছেন। এগারো বছর বয়সে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। হাই ওয়েকম্বে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানীয় দলের পক্ষে খেলেন। ২১ বছর বয়সে ১৯৭৬ সালে বাকিংহামশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলেন। ৭৪৮ রান তুলে অভিষেক মৌসুমে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। মিডলসেক্সের কোচ ডন বেনেট তাঁকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার উপযোগী হিসেবে চিত্রিত করেন ও পরের বছর তাঁকে দলে খেলার জন্যে চুক্তিতে আবদ্ধ করেন।
১৯৭৭ থেকে ১৯৮৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স এবং ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৭ সাল থেকে মিডলসেক্সের পক্ষে খেলতে থাকলেও ১৯৮১ সালের পূর্ব পর্যন্ত দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। অনেক সময়েই তাঁকে নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হতো। তবে, হেডিংলিতে মাইক ব্রিয়ার্লিকে ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলে লর্ডসে তিনি কেন্টের বিপক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামার জন্যে মনোনীত হন। দ্বিতীয় ইনিংসে নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে প্রথম উইকেটে ৩৬৭ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। তাঁর ১৮১ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনটি ছক্কা ও চব্বিশটি চারের মার ছিল। গ্রাহাম বার্লো’র (১৭৪*) সাথে তাঁর এ গড়া জুটি ডব্লিউ. ই. রাসেল ও এম. জে. হারিসের সংগৃহীত ৩১২ রানের জুটির সাফল্যকে ম্লান করে দেন এবং নতুন কাউন্টি রেকর্ড গড়েন। এরপর, ওরচেস্টাশায়ারের বিপক্ষে পরের খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৪৮ রান তুলেন। ঐ মৌসুম শেষে দলে স্থান পাকাপোক্ত করেন, কাউন্টি ক্যাপ লাভ করেন এবং ৪৮.২৫ গড়ে ১৩০৩ রান সংগ্রহ করেন।
১৯৮৬ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে ডেভিড গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৪ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।
একই সফরের ৭ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ম্যালকম মার্শালের অসাধারণ অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৮৬ সালে নিজ দেশে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৯ জুন, ১৯৮৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। দিলীপ বেঙ্গসরকারের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ২৭৯ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৫ জানুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে গাম্বিয়ার বাঞ্জুল এলাকায় মাত্র ৩৪ বছর ৩৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। এ সময় তিনি ব্যাটিং করছিলেন ও এক পর্যায়ে মাটিতে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে যান। পূর্ববর্তী দুই বছরে চারবার মাঠে কিংবা অনুশীলনীতে একই অবস্থায় পড়েছিলেন। কিন্তু, ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও এর কোন কারণ বের করা যায়নি।
