|

ইমরান নাজির

১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮১ তারিখে পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সহজাত প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভুত হন। তবে, তাঁর সেরা খেলা প্রদর্শনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে সচরাচর পিছনের পায়ের উপর ভর রেখে অফের দিকে ভালো খেলতেন। তবে, কভার অঞ্চলের অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক, পাকিস্তান রিজার্ভস, শেখুপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, শিয়ালকোট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, ওয়াটার ও পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এবং জারাই তারাকিয়াতি ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এশিয়া একাদশ, আইসিএল পাকিস্তান একাদশ, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, লাহোর বাদশাহ, নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স প্যান্থার্স ও শিয়ালকোট স্ট্যালিয়ন্সের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৯৯ থেকে ২০১২ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট, ৭৯টি ওডিআই ও ২৫টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে হাসান তিলকরত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৪ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের তৃতীয় খেলায় তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৬৪ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ওয়াজাহাতুল্লাহ ওয়াস্তি’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও শ্রেয়তর রান-রেটে শ্রীলঙ্কান দল চূড়ান্ত খেলায় ভারতের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পায়।

২৭ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে বিশাখাপত্তনমে একই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

২০০২-০৩ মৌসুমে ওয়াকার ইউনুসের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১১ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে শারজায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ম্যাথু হেইডেনের শতকের কল্যাণে খেলাটি পাকিস্তানী দল ইনিংস ও ১৯৮ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অগ্রসর হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আগ্রাসী ভূমিকার কারণে একদিনের উপযোগী হিসেবেই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেন। তাসত্ত্বেও, শুরুরদিকের প্রথম কয়েকটি টেস্টে মন্দ খেলেননি। এক পর্যায়ে তাঁর ব্যাটিং কৌশল ও পায়ের কারুকাজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্ট খেলাকালীন গ্লেন ম্যাকগ্রা ও তাঁর সহযোগীদের হাতে খুঁত ধরা পড়েন। দল থেকে বাদ পড়েন। মোহাম্মদ হাফিজ, ইয়াসির হামিদ, ইমরান ফারহাততৌফিক উমরের ন্যায় ক্রিকেটারদের উত্থান ঘটে। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রমাগত সফলতা পেতে থাকলে পুণরায় তাঁকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়।

২০০৬-০৭ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। ৩৯ বলে ৫৭ রানের ঝড়ো ইনিংসের কল্যাণে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তাঁকে দলে রাখা হয়। কিন্তু, একাধারে তিনটি খেলায় ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তবে, অন্যতম সেরা ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। প্রথম পাকিস্তানী হিসেবে স্কয়ার কাট না মেরে উল্টোভাবে খেলতেন। ঐ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ১৬০ রানের ইনিংস খেলেন। ফলশ্রুতিতে, আবুধাবি ও স্কটল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে পাকিস্তান দলে রাখা হয়। এছাড়াও, পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ শিবিরের জন্যেও মনোনীত হয়েছিলেন।

টি২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধনী আসরে পাকিস্তান দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। জুলাই, ২০০৭ সালে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপূর্বে নিজ দেশের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে অংশ নেন। পরবর্তীতে, অনুমোদনবিহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে খেলেন। লাহোর বাদশার পক্ষে বেশ ভালো খেলেছিলেন। কিন্তু, আইসিএলের সাথে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিষয়ে নমনীয়তা প্রদর্শন করলে পুণরায় তাঁকে ওডিআই দলে ফিরিয়ে আনা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট