২১ মার্চ, ১৯৯৪ তারিখে পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৪ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলায় অংশ নিতে শুরু করেন। এ পর্যায়ে বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন ও মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামতেন। ২০০৮ সালে আন্তঃআঞ্চলিক অনূর্ধ্ব-১৬ প্রতিযোগিতায় রাওয়ালপিন্ডির সদস্যরূপে খেলেছেন। শিয়ালকোটের বিপক্ষে ৬০ রান ও চার উইকেট নিয়ে দূর্দান্ত খেলেন। ফলশ্রুতিতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল আন্ডার-১৫ চ্যাম্পিয়নশীপে পাকিস্তান দলে খেলার সুযোগ লাভ করেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ধীরগতিসম্পন্ন পিচে নিজের বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তন করে ফেলেন। সাবেক কোচ আমির আকবর ও দলীয় ব্যবস্থাপক হারুন রশীদের সহায়তায় বোলিং কৌশল পরিবর্তন করে বামহাতি স্পিন বোলিংয়ে চলে যান ও স্পিন বোলিং অল-রাউন্ডার হিসেবে আবির্ভূত হন।
রাওয়ালপিন্ডিভিত্তিক এফজি বয়েজ স্কুলে অধ্যয়ন করতেন। তবে, ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেয়ার ফলে মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষায় অনিয়মিত হয়ে পড়েন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক ও রাওয়ালপিন্ডির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এডমন্টন রয়্যালস, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স, রাওয়ালপিন্ডি রামস ও রাজশাহী রয়্যালসের পক্ষে খেলেছেন।
৩ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত হাবিব ব্যাংক লিমিটেড বনাম পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংকের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। চার মৌসুম পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তিনটি শতক ও সাতটি অর্ধ-শতক সহযোগে ১৪৪০ রান ও ২৪.৪০ গড়ে ৪৪ উইকেট দখল করেছিলেন। পাকিস্তান সুপার লীগের উদ্বোধনী আসরে খেলেন। ১৩ উইকেট দখল করে ঐ প্রতিযোগিতার তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।
ন্যাশনাল টি২০ কাপে রাওয়ালপিন্ডি রামসের পক্ষাবলম্বন করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংকে খেলেন। ২০১৬ সালের পাকিস্তান সুপার লীগে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।
২০১৬ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে পাকিস্তানের সদস্যরূপে টি২০ আন্তর্জাতিকে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনে প্রবেশ করেন। ঐ খেলায় তিন ওভার থেকে ৩৮ রান খরচ করে ফেলেন। এর কয়েক মাস পর ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড গমনার্থে ওডিআই দলে ঠাঁই পান। ১৮ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে ডাবলিনের মালাহাইডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথম খেলেন। মনোরম অর্ধ-শতকের সন্ধান পান।
২০১৬-১৭ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে দুবাইয়ের ডিএসসিতে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। বাবর আজমের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে চার উইকেট দখল করেছিলেন। ২/৩৮ ও ২/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, আজহার আলী’র মনোরম ত্রি-শতকের কল্যাণে পাকিস্তান দল ৫৬ রানে জয় পায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
ইয়াসির শাহ ও শাদাব খান জাতীয় দলে তাঁদের স্থান পাকাপোক্ত করে ফেললেও তিনি তা করতে পারেননি। ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায়ও তাঁকে রাখা হয়নি।
২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নন। ০/৪৬ ও ১/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ৪৫ রান সংগ্রহের পাশাপাশি দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, হ্যারি ব্রুকের শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ২৬ রানের ব্যবধানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ইজদিহার নওয়াজ নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।
