২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে গুজরাতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বিদ্যালয় জীবনে পার্থিব প্যাটেলের সাথে একত্রে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। এছাড়াও, গুজরাত অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এক পর্যায়ে ১৬ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডে চলে যান। নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। সেখানে দীপক প্যাটেলের সান্নিধ্য পান। সঠিক মানসম্পন্ন বামহাতে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে নির্দিষ্ট নিশানা বরাবর স্ট্রোক খেলে থাকেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন।
২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলে যুক্ত হন। বেশ কয়েক বছর ধরে অকল্যান্ড দলে সফলতার সাথে খেলছেন। ৫ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অকল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। আট মৌসুমে কেবলমাত্র একবার তিন অঙ্কের সন্ধান পান ও ৪০-এর অল্প নীচে গড় রান তুলেছেন। ২০১৫-১৬ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ৫৯.৭৬ গড়ে ১০১৬ রান তুলেন। ফুরফুরে মেজাজে দীর্ঘ সময় নিয়ে ব্যাটিংয়ের কারণে দলীয় সঙ্গীরা তাঁকে রাহুল দ্রাবিড়ের সাথে তুলনা করতে থাকে।
এক পর্যায়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ২০১৬ সালের শেষদিকে জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা অভিমুখে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। এরপর, ভারত সফরে দলের সদস্যরূপে যুক্ত থাকলেও কোন টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। এছাড়াও, এক মৌসুম সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস স্ট্যাগসের পক্ষে খেলেছেন।
২০১৬ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৭ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব প্রথম টেস্টে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখে বেশ ধীরলয়ে ৫৫ ও ৩৬* রানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে সিম উপযোগী পিচে শক্তিধর পাকিস্তানী বোলিং আক্রমণ রুখে দিয়ে এ সফলতা পান। তবে, এরপর থেকে খেঁই হারিয়ে ফেলেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৬ মার্চ, ২০১৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩৬ ও ৮০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। কেশব মহারাজের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৫ মার্চ, ২০১৭ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৮০ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৮৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলীয় অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৭ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রান সংগ্রহের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ঐ টেস্টে দলের একমাত্র ইনিংসে ৪২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। নীল ওয়াগনারের অসাধারণ বোলিং দাপটে তাঁর দল ইনিংস ও ৬৭ রানের ব্যবধানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১৮-১৯ মৌসুমে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে আবুধাবিতে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে ৭ ও ৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এজাজ প্যাটেলের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে নিউজিল্যান্ড দল ৪ রানের নাটকীয় জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১৯-২০ মৌসুমে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে দিবা-রাত্রির টেস্টে অংশ নেন। সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ১ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মিচেল স্টার্কের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৯৬ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩১ ও ১২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে নাথান লায়নের শিকারে পরিণত হন। মারনাস লাবুশেনের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যের কল্যাণে সফরকারীরা ২৭৯ রানে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৪ মে, ২০২০ তারিখে কলিন মানরো’র সাথে কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে চলে যান। ১৫ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সুপার স্ম্যাশ ২০২০-২১ প্রতিযোগিতায় ক্যান্টারবারি কিংস বনাম নর্দার্ন নাইটসের মধ্যকার খেলায় ৫৫ বল থেকে ৭০ রানের অপূর্ব ইনিংস উপহার দেন।
