|

অ্যাল্বি রবার্টস

২০ আগস্ট, ১৯০৯ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, স্লিপ অঞ্চলে দূরন্ত ফিল্ডিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

অনবদ্য খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে মাঝারিসারিতে ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। তবে, নিউজিল্যান্ড দলের সদস্য হবার সাথে সাথেই নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করতে দেখা যায়। বলে তেমন পেস না থাকলেও উভয় দিক দিয়েই বলকে সুইং করাতে পারতেন।

১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৫০-৫১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন সফররত ইংরেজ দলের বিপক্ষে ক্যান্টারবারির সদস্যরূপে কয়েকটি দারুণ ইনিংস খেলে প্রথমবারের মতো সকলের সামনে চলে আসেন। ফলশ্রুতিতে, নিউজিল্যান্ডের টেস্ট দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়।

১৯৩০ থেকে ১৯৩৭ সময়কালে সাত বছরের অধিক আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র পাঁচ টেস্টে ব্ল্যাক ক্যাপসের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এ পর্যায়ে ২৭.৫৫ গড়ে ২৪৮ রান তুলেছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, এটিই নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলা ছিল। স্টুই ডেম্পস্টার, টেড ব্যাডকক, জর্জ ডিকিনসন, হেনরি ফোলি, ম্যাট হেন্ডারসন, কার্লি পেজ, রজার ব্লান্ট, টম লরিবিল মেরিটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তিন নম্বর অবস্থানে মাঠে নামেন। শুরুটা তেমন ভালো হয়নি তাঁর। খেলায় তিনি ৩ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

তবে, খুব শীঘ্রই নিজেকে মেলে ধরতে তৎপর হন। নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৪ রানের ইনিংস উপহার দেন।

১৯৩৭ সালে কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড সফরে যান। এ সফরে মিডিয়াম-পেস বোলার হিসেবে বোলিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। পিচে বলে বেশ সুইং ও পেসের অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন। কাঁধে ও আঙ্গুলে চোট পাবার পূর্বে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ২৬ গড়ে ৬২ উইকেট ও ২৫.৫০ গড়ে ৫১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সাসেক্সের বিপক্ষে ৮২ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন। খেলায় শিল্পসত্ত্বার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে না পারলেও বেশ রক্ষণাত্মক জ্ঞান রাখতেন। প্রয়োজনে উইকেটের সামনে এসে বলকে শক্তভাবে আঘাত করতে পারতেন। সিরিজের অধিকাংশ খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। তাস্বত্ত্বেও দুইটি টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ লাভ করেন। লর্ডসে অপরাজিত ৬৬ ও ওভালে ৫০ রান তুলেছিলেন। এরফলে, ব্যাটিং গড়ে দলের শীর্ষে থাকেন।

২৬ জুন, ১৯৩৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। ৬৬* ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তিনি ৪/১০১ ও ২/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

আঘাতের কারণে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নিতে পারেননি। একই সফরের ১৪ আগস্ট, ১৯৩৭ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫০ ও ৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৬ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। আঘাতের কারণে আর খেলতে পারেননি।

১৩ মে, ১৯৭৮ তারিখে ওতাগোর ক্লাইড এলাকায় ৬৮ বছর ২৬৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর পুত্র সি. ডব্লিউ. রক কেমব্রিজ থেকে ব্লু লাভ করে ও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করে।

সম্পৃক্ত পোস্ট