|

হামিশ রাদারফোর্ড

২৭ এপ্রিল, ১৯৮৯ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, মাঝে-মধ্যে স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে খেলেছেন।

নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন রাদারফোর্ডের সন্তান তিনি। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের পোশাক পরিহিত অবস্থায় খেলার সুযোগ পান। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৭ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস বনাম ওতাগোর মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০১১-১২ মৌসুমের প্লাঙ্কেট শীল্ডের চার খেলা থেকে তিনটি শতক হাঁকিয়ে সকলের নজর কাড়েন। পরের মৌসুমেই খেলার এ ধারা অব্যাহত রাখেন। এইচআরভি কাপের শিরোপা বিজয়ী ওতাগো দলের সদস্য ছিলেন। ঘরোয়া আসরের নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে দারুণ খেলার সুবাদে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা পান।

২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৬ টেস্ট, ৪টি ওডিআই ও ৮টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ের মাধ্যমে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূচনা ঘটে। অল্প কয়েকদিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে নেপিয়ারে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

একই সফরের ৬ মার্চ, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্রুস মার্টিনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। অভিষেক টেস্টে ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ১৭১ রান সংগ্রহ করেন যা হয়তোবা তিনি কল্পনায়ও আনতে পারেননি। জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড প্রমূখ বোলারদের ২১৭ বল মোকাবেলা করে এ সাফল্য পান। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর থেকে তাঁকে নিউজিল্যান্ডের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন। তবে, পরবর্তী ১১ ইনিংস থেকে কোন অর্ধ-শতরানের সন্ধান পাননি। দলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি প্রশ্নের মুখোমুখি হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের বিপক্ষে নিজ দেশেও আসা-যাবার পালায় অবস্থান করেন। প্রত্যেক ইনিংসের সূচনায় দারুণ খেললেও পরবর্তীতে বড় অঙ্কের রান তুলতে পারেননি। পাশাপাশি, মার্টিন গাপটিলের প্রত্যাবর্তনে ওডিআই দল থেকেও বাদ পড়েন।

২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৯ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৪ ও ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সোহাগ গাজী’র অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০১৪-১৫ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৩৭ ও ৪০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে নুয়ান প্রদীপের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। কেন উইলিয়ামসনের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীতে স্বাগতিকরা ১৯৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ড অভিমুখে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট