২২ এপ্রিল, ১৯৩৭ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের উইনচেস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে প্রাধান্য দেন। পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘পেডলার’ ডাকনামে পরিচিতি পাওয়া কেন পালমার ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ডিভাইজেসভিত্তিক সাউথব্রুম সেকেন্ডারি মডার্নে অধ্যয়ন করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে সমারসেট ড্রাগন্সসহ দ্বিতীয় একাদশে খেলতেন।

ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে সমারসেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সচল রাখেন। ১৯৫৪ সালে সমারসেটের কোচ হ্যারি পার্কসের সুপারিশক্রমে কাউন্টিতে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ১৯৫৫ সালে বাথে মিডলসেক্সের বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। দৃশ্যতঃ প্রথম একাদশে স্বীয় স্থান পাকাপোক্ত করে নেন। তবে, সমারসেটের প্রথম পেশাদার অধিনায়ক মরিস ট্রেমলেট তাঁকে সুইং বোলিংয়ে শৈল্পিকসত্তার বিকাশে অগ্রসর হন ও সফলতম অল-রাউন্ডারে পরিণত করেন।

১৯৬১ সালে ২৪ বছর বয়সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সমারসেটের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এক মৌসুমে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট লাভের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভের অধিকারী হন। ঐ গ্রীষ্মে তিনি ৩২টি চ্যাম্পিয়নশীপের তিন-দিনের খেলায় অংশ নিয়ে ২৫.৯০ গড়ে ১০৩৬ রান তুলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন অপরাজিত ১২৫ রান। ওয়ান্টেজ রোডে অনুষ্ঠিত খেলায় নর্দান্টসের বিপক্ষে এ সাফল্য পান। ৯৬৫ ওভারের মধ্যে ২৪৮ মেইডেন সহযোগে ২০.৩২ গড়ে ১১৪ উইকেট দখল করেন। সাতবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান।

১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১১৩ ও ০/৭৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে সমারসেটের পক্ষে ৩০২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২০.৭৩ গড়ে সাড়ে সাত হাজারের অধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, ২১.১১ গড়ে ৮৩৭ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৬৩ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৯/৫৭ লাভ করেন। তবে, তাঁর মতে, একই বছরে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে নিজের সেরা বোলিং করেছিলেন। ৭/৩৭ পেয়েছিলেন; তন্মধ্যে, সবগুলোই ছিল বোল্ড।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২৭ টেস্ট, ২৬টি ওডিআই, ৭৮টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও ২৪৪টি লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন। ৩১ ডিসেম্বর, ২০০২ তারিখে নববর্ষের প্রাক্কালে ক্রিকেট খেলায় অনবদ্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এমবিই উপাধীতে ভূষিত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জিভি পালমার নামীয় সন্তানের জনক।

সম্পৃক্ত পোস্ট